শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হাজীগঞ্জের জুতা ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:১৭ পিএম
কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হাজীগঞ্জের জুতা ব্যবসায়ী

হাজীগঞ্জে এক জুতা ব্যবসায়ী বিভিন্ন দোকানি ও ব্যাংকের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় মার্কেট মালিক মো. শফিকুল ইসলাম হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তথ্যসুত্রে জানাযায়, হাজীগঞ্জ বাজারের কাতার কানাডা মার্কেটের ২য় তলায় লাক্সারী সুজ এর স্বত্ত্বাধীকারী মো. রাশেদ দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা করে আসছেন। এই সুবাধে ব্যবসায়ী রাশেদের সাথে অনেকের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। সেই খাতিরে বিভিন্ন লোকজন থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যায়।

কাতার কানাডা টাওয়ার মালিক সফিকুল ইসলাম জানান, গত এক সাপ্তাহ আগে লাক্সারী সুজ দোকানে অর্ধেক দামে জুতা বিক্রি শুরু করে। হঠাৎ দোকানের এমন পরিস্থিতি দেখে আমার সন্দেহ হলে আমি প্রথমে ব্যবসায়ী রাশেদকে খোঁজ করি। দোকানের কর্মচারী মালিকের তথ্য দিতে না পারায় সন্দেহ হলে আমি মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে দোকান বন্ধ করে দেই।

Model Hospital

দোকান বন্ধের পর পরই বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ব্যাক্তিরা দোকানের সামনে এসে ভিড় জমায়। এতে অনেকের কাছ থেকে জানতে পারি রাশেদ কারো কাছ থেকে ৪২ লক্ষ, কারো কাছে ২৮ লক্ষ, কারো কাছে ৩৫ লক্ষ এমন কি ব্যাংকের কাছে ১৫ লক্ষ টাকাসহ প্রায় কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয় এই জুতা ব্যবসায়ী।

এ ঘটনায় আমি হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

উধাও হওয়া জুতা ব্যবসায়ী রাশেদ শাহরাস্তি উপজেলার বলশীদ চেঙ্গাচাল মজুমদার বাড়ীর মৃত সেকান্তর আলীর ছেলে। সে বর্তমানে তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে পলাতক রয়েছে।

কাতার কানাডা মার্কেটের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আমাদের মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও একটি সমিতি রয়েছে। সেই সমিতি থেকে রাশেদ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে ধার নেয়া লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনাটি আমাদের মার্কেটের ব্যবসায়ীদের শুনাম নষ্ট হচ্ছে। অবিলম্বে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়া জুতা ব্যবসায়ী রাশেদের বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মহিউদ্দিন ফারুক জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তাকে খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’