শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বেরনাইয়া নবতরুণ স্পোর্টিং ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত

শাহরাস্তি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ অনুষ্ঠিত

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৭:১৩ পিএম
শাহরাস্তি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ অনুষ্ঠিত

উদ্বোধক মোঃ জাহিদুল ইসলাম দিপুকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করছেন বেরনাইয়া নবতরুণ স্পোর্টিং ক্লাব।

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নে বেরনাইয়া নবতরুণ স্পোর্টিং ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫, সিজন ৫ এর আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী,  ৩ ঘটিকায় বেরনাইয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুই দিন ব্যাপী এই ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

বেরনাইয়া নবতরুণ স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাবের প্রধান পৃষ্টপোষক এবং জারিফ ফার্মার সত্ত্বাধিকারী মোঃ জাহিদুল ইসলাম দিপু।

এছাড়াও প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন শাহ শরীফ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও বেরনাইয়া নবতরুণ স্পোর্টিং ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোজাহের হোসেন।

Model Hospital

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শাহ শরীফ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ কাজী কামাল হোসেন, ক্লাবটির উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান মানিক, বেরনাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইব্রাহিম খলিল, অষ্ট্রগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মোঃ মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সুজন প্রমুখ।

অষ্টগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাবের প্রধান পৃষ্টপোষক এবং জারিফ ফার্মার সত্ত্বাধিকারী মোঃ জাহিদুল ইসলাম দিপু খেলা উদ্বোধনের সময় খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, বেরনাইয়া একটি খেলা প্রেমী অঞ্চল। এখানে বেরনাইয়া নবতরুণ স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই মিনিবার টুর্নামেন্টের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি। সকল খেলোয়াড়রা সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে সম্প্রীতির প্রদর্শন করবেন, এটাই আশা করি।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বেরনাইয়া নবতরুণ স্পোর্টিং ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোজাহের হোসেন বলেন, আমরা সকলেই এখানে খেলা উপভোগ করতে এসেছি। রেফারীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমরা সকলেই ভদ্রতা বজায় রেখে এই খেলাটি উপভোগ করবো।

আয়োজকরা জানান, প্রায় ৩২ টি দল অংশগ্রহণ করছে মিনি এই ফুটবল টুর্নামেন্টে। সিভিল সিন্ডিকেট ও সূর্যতরুণ ক্লাবের মধ্যকার খেলা দিয়ে শুরু হয় টুর্নামেন্টটি। টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি হিসেবে প্রথম পুরস্কার একটি ট্রফি ও ২০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ১০ হাজার, তৃতীয় পুরস্কার ৫ হাজার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’