শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে বিএনপির বিশাল সমাবেশ

সংস্কারের নামে কোন তালবাহানা চলবে না : বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান মিন্টু

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৭:৪৮ পিএম
সংস্কারের নামে কোন তালবাহানা চলবে না : বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান মিন্টু

চাঁদপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আমরা অচিরেই একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। সংস্কারের নামে কোন তালবাহানা চলবে না। আমরা এই সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলাম এখনো দিচ্ছি। কিন্তু এই সরকারের সময় যেভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। তার থেকে উত্তোলনের একটি পথ। তা হচ্ছে দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে শহরের হাসান আলী হাইস্কুল মাঠে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের নিয়ন্ত্রণ,অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা,পতিত ফ্যাসিবাদের অপচেষ্টা মোকাবেলা সহ বিভিন্ন জনদাবীতে চাঁদপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে।।এখন আমাদের ছোট ছোট ভাই বোনেরা মনেকরে তাদের আন্দোলনেই বিগত সরকার বিদায় নিচ্ছে এটা কি ঠিক? এটা ঠিক না। আমরা চাই একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক। অন্যথায় এদেশের জনগণ যদি আন্দোলন সংগ্রামে নামে তাহলে আপনাদের অবস্থাও কিন্তু নড়বড়ে হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, এই সরকার সংস্কারের কথা বলছে। আমরাও সংস্কার চাই সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু সংস্কারের নামে তাল বাহানা চলবেনা। জনগন যদি চায় তাহলে আশা করছি আগামীতে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করবো।

Model Hospital

তিনি বলেন, যারা আজকে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন চায়। আমরা মনেকরি এটিও একটি ষড়যন্ত্র। পাশাপাশি একটি কথা বলবো। আমাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে। নিজের মধ্যে বিভেদ করা যাবে না।অদূর ভবিষ্যতে যখন নির্বাচন হবে তখন যেই মনোনয়ন পাক তাকে নির্বাচিত করতে হবে।

চাঁদপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি (কুমিল্লা বিভাগীয়) সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোস্তাক মিয়া, এলডিপি কেন্দ্রীয় নেতা আবু তাহের, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন হারুনুর রশীদ, প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরা ।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন মাঝি, অ্যাড. হারুনুর রশীদ, শাহজালাল মিশন, অ্যাড. জাহাঙ্গীর হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোশারফ হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুর আনোয়ার বাবলু, জসিম উদ্দিন খান বাবুল, আব্দুস শুক্কুর পাটওয়ারী, দেওয়ান মোঃ সফিকুজ্জামান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সেলিমউস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. জহির উদ্দিন বাবর, আফজাল হোসেন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাড. মুনিরা চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সভাপতি এনায়েত উল্যাহ খোকন, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা মুক্তা, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাদল, জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক অ্যাড. নূরুল আমিন খান আকাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ মাঝি, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমাম হোসেন গাজী।

সমাবেশ শুরুর আগে বিভিন্ন উপজেলা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতৃবৃন্দ খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে এসে জনসমাবেশ স্থলে উপস্থিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এক সময় মাঠ পেরিয়ে আশেপাশের রাস্তাও কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর এধরনের একটি সমাবেশ হওয়ায় নেতাকর্মিরা অনেকটাই উৎফুল্ল।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’