শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চান্দ্রা ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের ইফতার মাহফিল

তাকওয়া ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব : জয়নাল আবেদীন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫, ৮:৫৪ পিএম
তাকওয়া ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব : জয়নাল আবেদীন

চান্দ্রা ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন ইসলামী আন্দোলনের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন।

১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ মার্চ) চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের চৌরাস্তা বাজারে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়ন শাখা।
ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমজানে মহাগ্রন্থ আল কোরআন নাজিল হয়েছে বিশ্ববাসীর হেদায়েতের জন্য। কোরআন এসেছে অমানিশা অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখানোর জন্য। হেদায়েতের আলো নিয়ে আসা পবিত্র কোরআন মক্কা নগরীতে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের মত একটি অন্ধকার সমাজকে পরিবর্তন করে সোনালী সমাজে পরিণত করেছিল। যে সমাজের প্রত্যেকটা মানুষ পৃথিবীর ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে কেয়ামত পর্যন্ত জাতির জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।
জাগতিক শিক্ষা গ্রহণ করে আমরা নিজেদেরকে অনেক শিক্ষিত মনে করি মূলত এটা আলোকিত শিক্ষা নয়। আলোকিত শিক্ষা হলো ওহীর এলেম অর্থাৎ কোরআনের শিক্ষা যে শিক্ষা মানুষের জীবনের সকল অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়। যার কাছে কোরআনের প্রকৃত শিক্ষা আছে সে কোনদিন অন্যায় অবিচার জুলুম নির্যাতন করতে পারে না। তার কাছে দেশ ও দেশের মানুষ সর্বদা নিরাপদ থাকে। কোন ব্যক্তি জাগতিক শিক্ষায় বড় ডিগ্রি অর্জন করলেও যদি কুরআনের শিক্ষা না থাকে তাহলে শিক্ষিত হওয়ার পরও সে বড় ধরনের চোর ও দুর্নীতিবাজেবাজে পরিনত হয়। কুরআনের আলো না থাকার কারণে ভালো-মন্দ তফাৎ করার সক্ষমতা তার থাকেনা।
তিনি আরো বলেন স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর আমাদের সামনে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে দেশ প্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিগত দিনের নোংরা রাজনীতির আমূল পরিবর্তন করে বৈষম্যহীন একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মুহতারাম আমীর হযরত পীর সাহেব চরমোনাই সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দেশবাসীকে আহবান করে যাচ্ছেন এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীরাও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন ভোটের ব্যাপারে আমাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে । শুধু দুই জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। ভালো নেতা ও নীতির পক্ষে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
১২নং চান্দ্রা ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোঃ মাসুদ আলমের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলার সভাপতি মোঃ রাকিব হোসেন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’