বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রশাসন নীরব, যাত্রীরা অসহায়!

চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বোগদাদের ‘একচ্ছত্র দখল’

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫, ৬:৪০ পিএম
চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বোগদাদের ‘একচ্ছত্র দখল’

চাঁদপুর -কুমিল্লা রোডে বোগদাদ পরিবহন ও বিগত সময়ে দূর্ঘটনার ২ টি ছবি।

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কটি বর্তমানে বোগদাদ পরিবহনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই সড়ক ব্যবহার করলেও তাদের যাতায়াত নিরাপদ নয়। কারণ, এই রুটে বোগদাদ পরিবহন ছাড়া অন্য কোনো বাস চলতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই পরিবহন সিন্ডিকেটের কারণে অন্যান্য পরিবহন সংস্থাগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছে, আর সাধারণ যাত্রীরা বেছে নিতে পারছে না বিকল্প কোনো সেবা।

বেপরোয়া গতির মরণফাঁদ

বোগদাদ পরিবহনের চালকদের বেপরোয়া বাস চালনার কারণে এই রুটে দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে একাধিক মারাত্মক দুর্ঘটনার জন্য বোগদাদ পরিবহন দায়ী থাকলেও, কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া কিছু উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনা:

Model Hospital

ডিসেম্বর ২০২৪: হাজীগঞ্জের বাকিলা পূর্ব বাজার এলাকায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী হারুন অর রশিদ নিহত হন।

ফেব্রুয়ারি ২০২৩: চাঁদপুর সদর উপজেলার ঘোষেরহাট এলাকায় বোগদাদ পরিবহনের বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হন।

মে ২০২২: হাজীগঞ্জের গোগরা এলাকায় বাসচাপায় তিন বছরের শিশু ইভা প্রাণ হারায়।

ডিসেম্বর ২০২১: হাজীগঞ্জের বলাখাল ধেররা এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের পথে বসিয়ে দিয়েছে বোগদাদ পরিবহন

এক সময় এই রুটে ঈগল সুপার, আজমির ও রিল্যাক্স পরিবহন চলাচল করত। কিন্তু বোগদাদ পরিবহনের প্রভাব ও রাজনৈতিক শক্তির কারণে এসব পরিবহন সংস্থা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এখন এই রুটে বোগদাদের বাইরে অন্য কোনো পরিবহন প্রতিষ্ঠান সেবা দিতে পারছে না।

আইদি পরিবহনের রোড পারমিট আটকে দেওয়া হলো কেন?

চাঁদপুরের মালিকানাধীন আইদি পরিবহন চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের জন্য রোড পারমিট পেলেও, তারা কুমিল্লায় প্রবেশ করতে পারছে না। স্থানীয়রা বলছেন, বোগদাদ পরিবহনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে কুমিল্লার প্রশাসন আইদি পরিবহনকে অনুমতি দিচ্ছে না।

একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যদি বিকল্প পরিবহন পেতাম, তাহলে বোগদাদের গাড়িতে উঠতাম না। কিন্তু অন্য কাউকে ব্যবসা করতেই দেওয়া হচ্ছে না।”

প্রশাসনের নীরবতা ও জনগণের দাবি

যাত্রীদের অভিযোগ, বারবার দুর্ঘটনার পরও প্রশাসন বোগদাদ পরিবহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের ধারণা, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতা বন্ধ করে রেখেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন, “বোগদাদ পরিবহনের এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। অন্যান্য পরিবহন সংস্থাগুলোকে রুট পারমিট দিতে হবে, যাতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নত হয়।”

সরকার ও প্রশাসন যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়ক বোগদাদ পরিবহনের একচ্ছত্র রাজত্বের কবলে পড়ে আরও অনিরাপদ হয়ে উঠবে। এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসন আদৌ কোনো উদ্যোগ নেয় কি না?

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital