রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভ্যাকসিনের তথ্য চাওয়ায় সংবাদকর্মীদের লাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:২৩ পিএম
ভ্যাকসিনের তথ্য চাওয়ায় সংবাদকর্মীদের লাঞ্ছিত

চাঁদপুর জেলার আট উপজেলায় প্রায় তিন মাস ধরে হাঁস-মুরগীর ভ্যাকসিনের সংকট চলছে। এতে করে খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শুধুমাত্র গত ১৫ এপ্রিল হাজীগঞ্জ উপজেলায় এক খামারির ১৯টি হাঁস মারা গেছে। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে বারবার গিয়েও তিনি ভ্যাকসিন পাননি।

এই সংকটের বাস্তবতা জানার জন্য বুধবার দুপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ছুটে যান দৈনিক খোলা কাগজ-এর প্রতিনিধি রিয়াজ শাওন এবং দৈনিক আদি বাংলা-এর প্রতিনিধি নূর মোহাম্মদ। কিন্তু সেখানে গিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তারা।

অফিস চলাকালীন সময় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমেনা আক্তার বিভিন্ন কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের সঙ্গে মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। যদিও অফিসে সাঁটানো একটি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, “সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার বেলা ২টার পর কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিটিং হবে”। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর মিটিং সংক্ষিপ্ত করে তাদের অফিসে প্রবেশের অনুমতি দেন তিনি।

Model Hospital

তবে হাঁস-মুরগীর মৃত্যুর ঘটনা ও ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে প্রশ্ন করতেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন ওই কর্মকর্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অফিস স্টাফদের ডেকে এনে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেন, তাদের ভিডিও ধারণ করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন।

রিয়াজ শাওন বলেন, “আমরা জানতে চেয়েছিলাম, কোন ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে, কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। কিন্তু তথ্য চাইতেই তিনি আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন।”

ওই কর্মকর্তা নিজেকে সচিবের আত্মীয় দাবি করে নানা ধরণের দম্ভোক্তি দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ‘গেটআউট’ বলে কর্মচারী দিয়ে ভিডিও ধারন করে নিজের কক্ষ থেকে বের করে দেন।

নূর মোহাম্মদ বলেন, “আমরা শুধু তথ্য নিতে গিয়েছিলাম। অথচ তিনি আমাদের ভিডিও ধারণ করতে বলেন এবং অফিসের কয়েকজন কর্মচারী আমাদের ঘিরে ধরেন। চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়, গালিগালাজ পর্যন্ত করেন।”

তিনি আরও জানান, ওই কর্মকর্তা জানতে চান, “ভুক্তভোগী খামারির নম্বর তারা কীভাবে পেলো, এবং সাংবাদিকদেরকে চেনে কীভাবে?” এরপর তিনি চিৎকার করে অফিসের অন্যান্য কর্মীদের দিয়ে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ করান।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, “ঘটনাটি আমি জেনেছি। কোনো শব্দচয়ন অশালীন হয়ে থাকলে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।” ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে কোনো অপপ্রচার যেন না হয়, এজন্য অফিস স্টাফদের দিয়ে ভিডিও ধারণ করতে বলা হয়েছে।”

ভ্যাকসিন সংকট বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে চাঁদপুর জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে হাঁস-মুরগীর ভ্যাকসিন রয়েছে। তবে আগের কয়েক মাস কিছুটা সংকট ছিল।”

এই বিষয়টায় বিকালে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জাহেদ হোসেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ও হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ কাছে দুঃখ প্রকাশ করে।

কার আশ্রয় আর প্রশ্রয়ে মামলা থাকার পরেও গ্রেফতার হচ্ছেনা রাব্বি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
কার আশ্রয় আর প্রশ্রয়ে মামলা থাকার পরেও গ্রেফতার হচ্ছেনা রাব্বি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মোল্লাডহর গ্রামে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ রাতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে তর্ক-বিতর্ককে কেন্দ্র করে বাড়ী ফেরার পথে মোল্লাডহর গ্রামের বেপরী বাড়ীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী, তৎকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী রাহেম আলীর ছেলে রাব্বি (২০), মৃত কালা মিয়ার ছেলে মো. রাহেম আলী (৪০), আলী মিয়ার ছেলে মো. শাখাওয়াত হোসেন (২৮), মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে সুমন (৩৫), সাফায়েত মিয়ার ছেলে শেখ ফরিদ (৩৫)সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন মিলে রাতের অন্ধকারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একই গ্রামের হাজী জবেদ উল্যার ছেলে আলমগীর সরদার (৩২), ওসমান মিয়ার ছেলে মো. সাদেক মিয়া (৩৫), আবুল কালামের ছেলে ওমর ফারুক (২০) এর উপর হামলা দেশীয় অস্ত্র চালায়।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আলমগীর সরদার ও ওমর ফারুক’কে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, সেখানে কয়েকজনের শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পওে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১ এপ্রিল মীর হোসেন প্রকাশ জাহাঙ্গীর আলম সরদার বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখ্য পূর্বক অজ্ঞাত নামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং জিআর ১০৮, তারিখ ১ এপ্রিল ২০২১।

আসামীরা সরকারের অনুসারী হওয়ায় ওই ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে পুলিশ মামলার ২নং আসামী শাখাওয়াত হোসেনকে আটক করে অপর আসামী সুমন ৩০/৫/২০২১ সালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বের হয়ে আসে।

Model Hospital

রাহেম আলী ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের চাচা ও ও সন্ত্রাসী রাব্বি চাচাতো ভাই হওয়ায় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় তারা রাতের অন্ধকারে দুবাই চলে যায়। ৬ বছর পর সন্ত্রাসীরা আবারো দেশে ফিরে। পরবর্তী ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের সহযোগিতায় রাহেম আলী জামিনে আসে বলেন অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

মামলার বাদী আরো জানান, কয়েক দিন পূর্বে সন্ত্রাসী রাব্বিও গোপনে দেশে এসেছে বলে জানাযায়। ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান তার জামিনের চেস্টা করছে বলে অভিযোগ করে বাদী। রাব্বি কখনো ঢাকা ও কখনো হাজীগঞ্জে এসে রাত্রি যাপন করছে। সন্ত্রাসী রাব্বিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান তিনি।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, রাব্বি যদি দেশে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে যদি ওয়ারেন্ট থাকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে। এ জন্য বাদী পক্ষ আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।

বাদী জাহাঙ্গীর আলম মীরু জানান, কেউ যদি হাজীগঞ্জ থানাকে সন্ত্রাসী রাব্বির সন্ধান দিতে পাওে তাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।