রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মামলা, আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ

মসজিদে বসে প্রশ্নের উত্তর পত্র তৈরি করতেন তারা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৩৩ পিএম
মসজিদে বসে প্রশ্নের উত্তর পত্র তৈরি করতেন তারা
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চলমান দাখিল পরীক্ষায় ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে মামলা দায়ের।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের এখলাশপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও. ইকরাম হোসাইন হামিদ ও মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার দুই চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইসমাইল হোসেন (৩২) ও তারেকুল ইসলাম(৩০)কে আদালতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।
অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার (২৩ এপ্রিল) দাখিল পরীক্ষায় হাদিস বিষয়ে পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের এখলাশপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও. ইকরাম হোসাইন হামিদ কৌশলে ফরিদগঞ্জ মাজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী তারেকুল ইসলামকে হাদিস বিষয়ের প্রশ্ন সংগ্রহ করে দিতে অনুরোধ করে। অফিস সহকারী তারেকুল মাদ্রাসার (পিয়ন) ইসমাইল হোসেনের সহযোগিতায় মাদ্রাসায় অবস্থিত দ্বিতীয় তলায় ১০ নং পরীক্ষার হল রুমে পাঠিয়ে মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে আনতে বলেন।
অফিস সহকারী তারেকুল কথা মতো ইসমাইল পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে মোবাইলে প্রশ্নের ছবি তুলে নিয়ে আসেন। এরপর অফিস কক্ষে গিয়ে তারেকের কাছে মোবাইল ফোন বুঝিয়ে দিয়ে আসেন। তারেকুল তাৎক্ষণিক একলাশপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারের হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠিয়ে দেয়। এরপর মাদ্রাসা সুপার পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদে গিয়ে প্রশ্নের উত্তর পত্র তৈরি করেন।
এদিকে মাজিদিয়া কামিল মাদরাসা দাখিল পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে যেই ১০ নং হলে দায়িত্বরত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে।
প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া মাদ্রাসার হল সুপার মাও. মফিজুর রহমান এবং অভিযুক্ত তিনজনকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময়ে এখলাশপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও. ইকরাম হোসাইন হামিদ এর হোয়াটসঅ্যাপে ডুকুমেন্ট আকারে ওই প্রশ্ন দেখতে পান। যা ইসমাইলের মুঠো ফোন থেকে তারেক পাঠায় বলে নিশ্চিত হন। যাচাই বাছাই করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্তদের পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এদিকে পরীক্ষা হলে দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ফরিদগঞ্জ মাজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি এইচ এম আনোয়ার মোল্লা।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশিষ্টজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সুনিশ্চিত সাজার বিধান থাকলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করে প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।
প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত তিন জনকে নিয়মিত মামলায় আদালতে প্রেরণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ্ আলম।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতান রাজিয়া বলেন, প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করার জন্য নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কার আশ্রয় আর প্রশ্রয়ে মামলা থাকার পরেও গ্রেফতার হচ্ছেনা রাব্বি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
কার আশ্রয় আর প্রশ্রয়ে মামলা থাকার পরেও গ্রেফতার হচ্ছেনা রাব্বি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মোল্লাডহর গ্রামে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ রাতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে তর্ক-বিতর্ককে কেন্দ্র করে বাড়ী ফেরার পথে মোল্লাডহর গ্রামের বেপরী বাড়ীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী, তৎকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী রাহেম আলীর ছেলে রাব্বি (২০), মৃত কালা মিয়ার ছেলে মো. রাহেম আলী (৪০), আলী মিয়ার ছেলে মো. শাখাওয়াত হোসেন (২৮), মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে সুমন (৩৫), সাফায়েত মিয়ার ছেলে শেখ ফরিদ (৩৫)সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন মিলে রাতের অন্ধকারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একই গ্রামের হাজী জবেদ উল্যার ছেলে আলমগীর সরদার (৩২), ওসমান মিয়ার ছেলে মো. সাদেক মিয়া (৩৫), আবুল কালামের ছেলে ওমর ফারুক (২০) এর উপর হামলা দেশীয় অস্ত্র চালায়।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আলমগীর সরদার ও ওমর ফারুক’কে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, সেখানে কয়েকজনের শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পওে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১ এপ্রিল মীর হোসেন প্রকাশ জাহাঙ্গীর আলম সরদার বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখ্য পূর্বক অজ্ঞাত নামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং জিআর ১০৮, তারিখ ১ এপ্রিল ২০২১।

আসামীরা সরকারের অনুসারী হওয়ায় ওই ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে পুলিশ মামলার ২নং আসামী শাখাওয়াত হোসেনকে আটক করে অপর আসামী সুমন ৩০/৫/২০২১ সালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বের হয়ে আসে।

Model Hospital

রাহেম আলী ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের চাচা ও ও সন্ত্রাসী রাব্বি চাচাতো ভাই হওয়ায় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় তারা রাতের অন্ধকারে দুবাই চলে যায়। ৬ বছর পর সন্ত্রাসীরা আবারো দেশে ফিরে। পরবর্তী ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের সহযোগিতায় রাহেম আলী জামিনে আসে বলেন অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

মামলার বাদী আরো জানান, কয়েক দিন পূর্বে সন্ত্রাসী রাব্বিও গোপনে দেশে এসেছে বলে জানাযায়। ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান তার জামিনের চেস্টা করছে বলে অভিযোগ করে বাদী। রাব্বি কখনো ঢাকা ও কখনো হাজীগঞ্জে এসে রাত্রি যাপন করছে। সন্ত্রাসী রাব্বিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান তিনি।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, রাব্বি যদি দেশে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে যদি ওয়ারেন্ট থাকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে। এ জন্য বাদী পক্ষ আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।

বাদী জাহাঙ্গীর আলম মীরু জানান, কেউ যদি হাজীগঞ্জ থানাকে সন্ত্রাসী রাব্বির সন্ধান দিতে পাওে তাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।