রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের কয়েকঘন্টার উদ্ধার অভিযানেও খোঁজ মিলেনি

চাঁদপুরে বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসল করতে নেমে কলেজ ছাত্র নিখোঁজ 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:০৮ পিএম
চাঁদপুরে বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসল করতে নেমে কলেজ ছাত্র নিখোঁজ 
চাঁদপুর শহরের গুনরাজদীতে বন্ধুদের সাথে ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে গিয়ে সৌম্যদীপ সরকার আপন নামের ইন্টার পড়ুয়া এক কলেজ ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে।
২৭ এপ্রিল রোববার দুপুরে চাঁদপুর শহরের পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডস্থ গুনরাজদী  এলাকায় ডাকাতিয়া নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়া সৌম্যদীপ সরকার আপন মিশন রোড এলাকার মানিক রঞ্জন সরকারের ছেলে। তার বাবা হাজীগঞ্জে মেনাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক।
নিখোঁজ আপন পুরান বাজার ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
 প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার দুপুরে আপন বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে গোসল করতে ইসলামপুর গাছতলা এলাকার দেশ এনার্জি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে ডাকাতিয়া নদীতে যান। এ সময় তারা সাঁতার প্রতিযোগিতা দিয়ে নদীর এপার থেকে ওপার যাওয়ার চেষ্টা করে। তারা নদীর মাঝখান দিয়ে একটি বালু বোঝাই বলগেট যাওয়ার সময় প্রচন্ড ঢেউয়ে আপন নদীর তলদেশে তলিয়ে যায়। সাথে থাকা তিন বন্ধু তীরে উঠলেও আপন নিখোঁজ হয়। তবে বন্ধুরা নিখোঁজের সংবাদটি তার পরিবারকে দীর্ঘ সময় পরে জানান।
এদিকে নিখোঁজের খবর পেয়ে নৌ ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, ও নৌ-পুলিশ সদস্যরা সহ ডুবরি দল দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
নিখোঁজ হওয়া আপনের মা শান্তা সরকার জানায়, বাসা থেকে না বলে আপন বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। আপন অল্প সাঁতার পারে। তবে মাঝেমধ্যে পরিবারের কাউকে না বলে নদীতে গোসল করতে যায় সে।
ছেলের খোঁজ পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন পরিবারের স্বজনরা।
কলেজ ছাত্র নিখোঁজের খবর শুনে এলাকার হাজার হাজার নারী পুরুষ ও তার সহপাঠীরা ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে গিয়ে ভিড় জমায়।
আপন নিখোঁজ হওয়ায় বাবা মা ও পরিবারের স্বজনরা নদীর পাড়ে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে আহাজারি করতে দেখা যায়।

কার আশ্রয় আর প্রশ্রয়ে মামলা থাকার পরেও গ্রেফতার হচ্ছেনা রাব্বি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
কার আশ্রয় আর প্রশ্রয়ে মামলা থাকার পরেও গ্রেফতার হচ্ছেনা রাব্বি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মোল্লাডহর গ্রামে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ রাতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে তর্ক-বিতর্ককে কেন্দ্র করে বাড়ী ফেরার পথে মোল্লাডহর গ্রামের বেপরী বাড়ীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী, তৎকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী রাহেম আলীর ছেলে রাব্বি (২০), মৃত কালা মিয়ার ছেলে মো. রাহেম আলী (৪০), আলী মিয়ার ছেলে মো. শাখাওয়াত হোসেন (২৮), মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে সুমন (৩৫), সাফায়েত মিয়ার ছেলে শেখ ফরিদ (৩৫)সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন মিলে রাতের অন্ধকারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একই গ্রামের হাজী জবেদ উল্যার ছেলে আলমগীর সরদার (৩২), ওসমান মিয়ার ছেলে মো. সাদেক মিয়া (৩৫), আবুল কালামের ছেলে ওমর ফারুক (২০) এর উপর হামলা দেশীয় অস্ত্র চালায়।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আলমগীর সরদার ও ওমর ফারুক’কে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, সেখানে কয়েকজনের শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পওে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১ এপ্রিল মীর হোসেন প্রকাশ জাহাঙ্গীর আলম সরদার বাদী হয়ে ৫জনের নাম উল্লেখ্য পূর্বক অজ্ঞাত নামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং জিআর ১০৮, তারিখ ১ এপ্রিল ২০২১।

আসামীরা সরকারের অনুসারী হওয়ায় ওই ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে পুলিশ মামলার ২নং আসামী শাখাওয়াত হোসেনকে আটক করে অপর আসামী সুমন ৩০/৫/২০২১ সালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বের হয়ে আসে।

Model Hospital

রাহেম আলী ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের চাচা ও ও সন্ত্রাসী রাব্বি চাচাতো ভাই হওয়ায় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় তারা রাতের অন্ধকারে দুবাই চলে যায়। ৬ বছর পর সন্ত্রাসীরা আবারো দেশে ফিরে। পরবর্তী ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের সহযোগিতায় রাহেম আলী জামিনে আসে বলেন অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

মামলার বাদী আরো জানান, কয়েক দিন পূর্বে সন্ত্রাসী রাব্বিও গোপনে দেশে এসেছে বলে জানাযায়। ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান তার জামিনের চেস্টা করছে বলে অভিযোগ করে বাদী। রাব্বি কখনো ঢাকা ও কখনো হাজীগঞ্জে এসে রাত্রি যাপন করছে। সন্ত্রাসী রাব্বিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান তিনি।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, রাব্বি যদি দেশে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে যদি ওয়ারেন্ট থাকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে। এ জন্য বাদী পক্ষ আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।

বাদী জাহাঙ্গীর আলম মীরু জানান, কেউ যদি হাজীগঞ্জ থানাকে সন্ত্রাসী রাব্বির সন্ধান দিতে পাওে তাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।