বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

অবৈধ বাহনে ক্ষত-বিক্ষত চাঁদপুরের গ্রামীণ সড়ক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫, ৭:৪৫ পিএম
অবৈধ বাহনে ক্ষত-বিক্ষত চাঁদপুরের গ্রামীণ সড়ক

অবৈধ বাহনে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাঁদপুর জেলার গ্রামীণ সড়কগুলো। নিয়ন্ত্রণহীন এসব বাহনের কারণে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলায় সড়কে এসব বাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত এসব বাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার গ্রামীণ সড়কে অবাধে চলছে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানবাহন ভটভটি। এছাড়া গ্রামীণ সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বালু, মাটি ও ইটবাহী ট্রাক্টর। জমিতে আবাদি কাজের জন্য ব্যবহৃত এসব ট্রাক্টরের কারণে বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশের সামনে দিয়ে এসব নিষিদ্ধ যান চলাচল করলেও এগুলো বন্ধ করার জন্য নেওয়া হচ্ছে না স্থায়ী কোনো আইনগত ব্যবস্থা।

আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার প্রধান সড়কে যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিদিন চলছে সেচযন্ত্র চালিত অবৈধ ভটভটি। শ্যালো ইঞ্জিন ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে এসব অবৈধ যানবাহন তৈরি করা হচ্ছে। তাদের নেই কোনো যান্ত্রিক ফিটনেস ও আইনি বৈধতা।

Model Hospital

শাহরাস্তি উপজেলার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবহন ব্যয় কমাতে ট্রাক ও পিকআপের বিকল্প এ বাহন বালু, সিমেন্ট, কাঠ, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য বহনে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ট্রাক্টর। কৃষি কাজের জন্য ভর্তুকি দিয়ে কেনা ইঞ্জিনের পেছনে ট্রলি সংযোগ করে ট্রাকের বিকল্প পণ্য পরিবহনে এ যানের ব্যবহার হচ্ছে। বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহে কৃষি জমির টপ সয়েল বিক্রির জন্য জমির মাঝেই নিজস্ব রাস্তা তৈরি করে ট্রাক্টর চলাচল করে।

চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. নাহিদ জানান, সড়কে বিভিন্ন যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা ভটভটি ও ট্রাক্টরের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটছে। বাস বা অটোরিকশায় চড়েও এসব যানবাহন দেখে আঁতকে উঠি।

হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, ট্রাক্টরগুলো বন্ধ হচ্ছে না ইটভাটা মালিকদের জন্য। তারা এই বাহন জমি থেকে মাটি কাটার কাজে বেশি ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে কাজ করলে এসব বাহন সড়েক চলতে পারবে না।

হাইমচর উপজেলার মহজমপুর গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, ট্রাক্টর চলাচলে একসময় নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন চাঁদপুরের সাবেক পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার। এরপর কয়েক বছর বন্ধ থাকলেও এখন আবার সড়কে চলছে এসব বাহন। এসব বাহন বন্ধ না করলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়কগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।

শাহরাস্তি উপজেলার কালিয়াপাড়া এলাকার পরিবহন শ্রমিক আহসান হাবিব বলেন, ভটভটি দিয়ে বিভিন্ন মালামাল ও তরিতরকারি আনা-নেওয়া করা হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে অবৈধ ও অনিরাপদ এসব যান চলাচল করছে। খরচ বাঁচাতে মিনি ট্রাকের বিকল্প হিসেবে এই যানবাহন ব্যবহার হয়। এসব গাড়ির ব্রেক সিস্টেম ভালো না। নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। এই যানবাহন চালকদের নেই কোনো ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স। অনেক সময় মালপত্রসহ গাড়ি উল্টে যায়।

মেহের ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রতিটি যানবাহন বাজারে আসার আগে তাদের গতি, বেগ ও ব্রেকিং সিস্টেম বুয়েটে পরীক্ষা করে অনুমোদন নেওয়া হয়ে থাকে। স্থানীয়ভাবে তৈরি করা এসব যানবাহন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এগুলো কোনো বাহনের পর্যায়ে পড়ে না।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’র সভাপতি মো. বারাকাত উল্লাহ পাটওয়ারী বলেন, ট্রাক্টরে মাল পরিবহন ও চলাচল বন্ধে বহুবার সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা কঠোর না হওয়ায় এসব বাহন বন্ধ হচ্ছে না। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব বাহনের লাগাম টেনে ধরা দরকার।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বলেন, ট্রাক্টরসহ অবৈধ যান চলাচল বন্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব যান স্থায়ীভাবে বন্ধে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, চাষাবাদের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রচালিত এসব বাহন কোনোভাবেই সড়কে চলার অনুমতি নেই। জেলার যেসব থানা ও উপজেলায় এ ধরনের যানবাহন চলাচল করে, ওইসব থানার ওসি এবং ট্রাফিক পুলিশকে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।