শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বপ্নপোড়া এক কিশোরীর অন্তিম সিদ্ধান্ত

শাহরাস্তিতে দাখিল পরীক্ষার্থী বিথীর নির্মম বিদায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ৯:২৫ পিএম
শাহরাস্তিতে দাখিল পরীক্ষার্থী বিথীর নির্মম বিদায়
শাহরাস্তিতে বিয়ের কথা শুনে অভিমানে দাখিল পড়ুয়া ষোড়শি পরীক্ষার্থী আত্মহন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউপির চন্ডিপুর গ্রামের ৩নং ওয়ার্ডের আশকর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা, নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, উপজেলার আলহাজ্ব সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেনের মেয়ে নুসরাত জাহান বিথী (১৬)দাখিল পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওইদিন বিথী অন্যদিনের মতো দুপুরের খাবার খেয়ে  সে তার কক্ষে ঘুমাতে যায়।
এক পর্যায়ে পরিবারের স্বজনরা তার সাড়া শব্দ না পেয়ে গৃহের উত্তর পাশের ভেন্টিলেটর ফাঁক করে তাকে (বীথিকে) ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁশ দেওয়া অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখেন। পরে স্বজনদের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে শাহরাস্তি মডেল থানার একদল পুলিশ তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেন।
রবিবার পুলিশ তার সুরতলহাল সংগ্রহ শেষে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে প্রেরন করে।
এদিকে হঠাৎ করে এ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ওই শিক্ষার্থীর কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার মুজাফফরগঞ্জ এলাকায় বিবাহ ঠিক করা হয়েছিল। ওই হিসেবে গত শনিবার বরযাত্রী তাকে দেখতে এসে বিবাহ হওয়ার কথা এলাকায় চাউর রয়েছে। অনেকে বলছেন, তাকে লেখাপড়ার জন্য অনেক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন রয়ে গেল, বিবাহ,লেখাপড়া না অন্য কোন বিষয় যা ষোড়শী বীথী হজম করতে না পেরে মৃত্যুর মতো কঠিন সিদ্ধান্তের পথে পা বাড়ালো।
অন্যদিকে তার স্বজনরা পুলিশের নিকট কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই মর্মে একটি আবেদন করেন।
-এ প্রসঙ্গে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আবুল বাসার জানান,এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’