শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সংস্কার দাবি সর্বত্র

ফরিদগঞ্জে খাজুরিয়া বাজারের পাবলিক টয়লেটের করুণ চিত্র, জনস্বাস্থ্য উপেক্ষিত

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫, ৮:৫৫ পিএম
ফরিদগঞ্জে খাজুরিয়া বাজারের পাবলিক টয়লেটের করুণ চিত্র, জনস্বাস্থ্য উপেক্ষিত

খাজুরিয়া বাজারের দুইটি টয়লেটের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, তা ব্যবহার করার মতো নয়। টয়লেটের ভেতরে নোংরা পরিবেশ, দরজার নিচ থেকে প্রায় এক ফুট ফাঁকা, উপরের অংশে ফাটল ও ছিদ্র। ভিতর থেকে দরজা আটকে রাখার ব্যবস্থাও নেই। আশেপাশে পড়ে থাকে ময়লার স্তূপ, যেন একেকটি ময়লার ভাগাড়!

চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া বাজার ফরিদগঞ্জ পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও ব্যস্ততম একটি বাজার। এই বাজারটি কেবল গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের নয়, বরং আশেপাশের ইউনিয়ন ও পাশের জেলা লক্ষ্মীপুরেরও অসংখ্য মানুষের হাটবাজার ও যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্র।

প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বাজারে আসে ব্যবসা করতে, কেনাকাটা করতে, ব্যাংকিং করতে বা সিএনজি রুটে চলাচল করতে।

বিশেষ করে প্রতি সোমবার ও শুক্রবার সাপ্তাহিক হাট বসায় লোকসমাগম আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বাজারে রয়েছে প্রায় ৩০০টিরও বেশি দোকান, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, ব্যাংক, এনজিও, ক্লিনিকসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

Model Hospital

এই বাজারের মাঝ দিয়েই চলে গেছে ফরিদগঞ্জ পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ফরিদগঞ্জ-ব্রহ্মপাড়া সড়ক। এখানেই অবস্থিত পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ত সিএনজি স্ট্যান্ড, যেখান থেকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর, চাঁদপুর জেলা সদর, রামগঞ্জ কাটাখালি, হাজীগঞ্জ শহর এই রুটে প্রতিদিন শত শত সিএনজি চলাচল করে।

কিন্তু এতসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মাঝে চরম অবহেলায় পড়ে আছে একটি মৌলিক প্রয়োজন পাবলিক টয়লেট!
বর্তমানে বাজারে থাকা দুইটি টয়লেটের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, তা ব্যবহার করার মতো নয়। টয়লেটের ভেতরে নোংরা পরিবেশ, দরজার নিচ থেকে প্রায় এক ফুট ফাঁকা, উপরের অংশে ফাটল ও ছিদ্র। ভিতর থেকে দরজা আটকে রাখার ব্যবস্থাও নেই। আশেপাশে পড়ে থাকে ময়লার স্তূপ, যেন একেকটি ময়লার ভাগাড়!

এই অবস্থায় ব্যবসায়ী, যাত্রী, চালক, পথচারী সবারই ভোগান্তির শেষ নেই। অনেকেই বাধ্য হয়ে টয়লেটের প্রয়োজন মেটাতে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন। আবার অনেক সময় সম্মানজনকভাবে সামাল দেওয়া যায় না এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয় বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিষয়টি হয়ে ওঠে আরও কষ্টদায়ক।

সমাজকর্মী পারভেজ মোশারফ এই অবস্থার প্রতিবাদ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দাবি করে নিচের ৪টি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে: ১. বাজারের দুইটি টয়লেটে নতুন দরজা স্থাপন করতে হবে। ২. টয়লেটের ভিতরের দেয়াল সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ৩. টয়লেটের ভিতরে এবং আশপাশে বাতির ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে রাতে ব্যবহার করা যায়। ৪. টয়লেটের দিকে যাওয়ার সরু রাস্তা ও টিউবওয়েলের পাশে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে নেই বাজার কমিটির নির্বাচন : উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো দীর্ঘ বছর ধরে খাজুরিয়া বাজার ব্যবসায়ী কমিটির কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে বাজারের অন্যান্য অব্যবস্থাপনাও প্রকট হয়ে উঠেছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রোড লাইট, টয়লেট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব কিছুই দেখভালের অভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

তবে স্থানীয় বিট পুলিশ অফিসারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাতের নিরাপত্তার জন্য গার্ডের ব্যবস্থা সচল আছে, যা ইতিবাচক দিক।

এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার : খাজুরিয়া বাজার কেবল একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, এটি আশেপাশের প্রায় ১০-১৫টি গ্রামের মানুষের জন্য একটি জীবনরেখা। সেখানে এই মৌলিক চাহিদার এমন বেহাল দশা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাই স্থানীয় সরকার, ইউনিয়ন পরিষদ, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান দ্রুত টয়লেট দুটি সংস্কার করুন।
কারণ পরিষ্কার ও নিরাপদ টয়লেট কেবল স্বাচ্ছন্দ্য নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের অপরিহার্য বিষয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’