বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছরেও ফরিদগঞ্জের ২৩১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৭:৩৬ পিএম
ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছরেও ফরিদগঞ্জের ২৩১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই
এস. এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২৩১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই। মহান ভাষা দিবসের দিন এলাকার হাজারো শিক্ষার্থী অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ না করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নতুন প্রজন্ম ভাষা দিবস সম্পর্কে তেমন কোন ধারনা নিতে পারেনা।
১৯৫২ সালে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন এদেশে তরুণ সমাজ। সেসব ভাষা সৈনিকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে শহীদ মিনার। আমাদের ভাষা আন্দোলনকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় দিবসটির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। ২১ ফেব্রুয়ারিতে এদেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন। ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার।
উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১’শ ৯০টি। এর মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ স্কুলে শহীদ মিনার রয়েছে। অবশিষ্ট শতকরা ৯০ ভাগ স্কুলে কোন শহীদ মিনার নেই। উপজেলার ১০৬টি উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটিতে শহীদ মিনার থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই। উপজেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিবসটি পালনের লক্ষে ওইদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রভাতফেরী করে স্থানীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অস্থায়ীভাবে চেয়ার, টেবিল, কলা গাছ, কাঠ, বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ এ আর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল বলেন, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করতো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দিবস সম্পর্কে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

কয়েকটি বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ভাষা দিবসে আমরা কলার গাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। এলাকার অভিভাবকগণ নতুন প্রজন্মকে বঞ্চিত না করে দ্রুত নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মানের দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ্ আলী রেজা আশরাফি জানান, ইতোপূর্বে জেলা পরিষদের মাধ্যমে অনেক গুলো শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার করে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে আমার কর্তৃপক্ষের আলোচনা করে সকল স্কুলে শহীদ মিনার করে দিবেন বলে তিনি জানান।

জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান মিটু বলেন, জেলা পরিষদ থেকে সকল প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনার নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিয়েছি। চলতি বছরে বাকি মাধ্যমিক পর্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলি হরি বলেন, এ বিষয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আলাপ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Model Hospital

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা প্রয়োজন। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাথমিক পর্যায় থেকে মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’