শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর কাচ্চি ডাইনে উপচে পড়া ভিড়: আসল কাচ্চির স্বাদে মুগ্ধ শহরজুড়ে ভোজনরসিকরা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:২০ পিএম
চাঁদপুর কাচ্চি ডাইনে উপচে পড়া ভিড়: আসল কাচ্চির স্বাদে মুগ্ধ শহরজুড়ে ভোজনরসিকরা

চাঁদপুর শহরের খাদ্যরসিকদের জন্য নতুন এক চমক হয়ে উঠেছে সদ্য উদ্বোধিত রেস্টুরেন্ট ‘কাচ্চি ডাইন’। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাচ্চির স্বাদ নিতে ভোক্তাদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। অথেনটিক ও সুস্বাদু কাচ্চির স্বাদ নিতে শুধু শহরের মানুষই নয়, আশপাশের জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকেও প্রতিদিনই কাচ্চির সেই আসল ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ নিতে অসংখ্য খাদ্যপ্রেমী ভিড় করছেন রেস্টুরেন্টটিতে। অন্যদিকে রেস্টুরেন্টটির মনোরম পরিবেশ, দ্রুত সার্ভিস এবং সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে পরিবার থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী সবাই সমানভাবে ভিড় জমাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) কালিবাড়ি মোড়স্থ পৌর নিউ মার্কেটের এবি ব্যাংকের তৃতীয় তলায় একঝাঁক কোরআন শিক্ষার্থীদের দোয়ার মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় খাবার প্রতিষ্ঠান কাচ্চি ডাইন চাঁদপুর ব্রাঞ্চ রেস্টুরেন্টটির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

ভোজনরসিকরা জানিয়েছেন, “অনেক জায়গায় কাচ্চি খেয়েছি, কিন্তু কাচ্চি ডাইনের স্বাদ সত্যিই আলাদা। মাংসের কোমলতা এবং মসলার স্বাদ যেন মন ছুঁয়ে যায়।” এখানে পরিবেশিত কাচ্চিতে রয়েছে আসল ও খাঁটি স্বাদের অনুভূতি, যা চাঁদপুরে এর আগে খুব কমই পাওয়া যেত। কাচ্চি ডাইনের কাচ্চিতে মসলার ভারসাম্য, নরম মাংস এবং সুগন্ধি ভাত ঠিক সেই ঐতিহ্যবাহী কাচ্চির স্বাদ মনে করিয়ে দেয়। দীর্ঘদিন পর আসল কাচ্চির স্বাদ পেয়েছেন ‘কাচ্চি ডাইন’-এ এসে। খাবারের স্বাদে মুগ্ধ হয়েছি। “আসল ঢাকাই স্বাদের কাচ্চি খুঁজছিলাম—এখানে এসে পেলাম।” আমরা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মান বজায় রাখার জন্য ধন্যবাদ জানাই।

স্থানীয়দের মতে, নতুন এই কাচ্চি ব্রাঞ্চ চাঁদপুরের খাবার সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নান্দনিক পরিবেশে মানসম্মত ও অথেনটিক কাচ্চি উপভোগের সুযোগ পাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ। শহরবাসী মনে করছে, এই রেস্তোরাঁ চাঁদপুরে আধুনিক খাদ্যসেবার একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

Model Hospital

রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানান, নরম-ঝরঝরে মাংস, সুগন্ধি বাসমতী চাল এবং ঐতিহ্যবাহী মসলার সমন্বয়ে প্রস্তুত তাদের বিশেষ কাচ্চি শহরের কাচ্চিপ্রেমীদের কাছে ইতোমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা যায় রেস্টুরেন্টের সামনে। মান বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তারা প্রতিদিনই মানসম্মত উপকরণ দিয়ে কাচ্চি প্রস্তুত করছেন এবং গ্রাহকদের সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর সেই সন্তুষ্টি যেন গ্রাহকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে। আর গ্রাহকদের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হওয়ায় প্রতিদিনই অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। তবুও মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহ তাদের আরও উৎসাহিত করছে।

চাঁদপুর ব্রাঞ্চের পরিচালক মোহাম্মদ ইয়ামিন বলেন, চাঁদপুরবাসীকে অথেনটিক বাসমতী কাচ্চি স্বাদ দিতেই ঢাকা কাচ্চি ডাইনের যাত্রা শুরু। ঐতিহ্য ও ব্যক্তিত্ব ধরে রাখতে কাচ্চি ডাইন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। কখনোই আমরা কোয়ালিটির সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করবো না।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের রেস্তোরাঁয় বাসমতি কাচ্চি, কাচ্চি খাদক, প্লেইন পোলাও, মুরগির রোস্ট, খাসি- কাবাব, মাটন চুইঝাল, বাদাম শরবত, বোরহানি, ফিরনি, চাটনি, জর্দা ও কোমল পানীয় পাওয়া যাবে।

বিশেষ অফার–চাঁদপুর শাখার উদ্বোধন উপলক্ষে ঘোষণা করা হয়েছে স্পেশাল র‌্যাফেল ড্র অফার। ২৪ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫০০ টাকা বা তার বেশি টাকার খাবার নিলেই মিলবে একটি টোকেন। ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জমকালো র‌্যাফেল ড্র।

পুরস্কারসমূহ—১ম পুরস্কার: মোটরসাইকেল, ২য়: ফ্রিজ, ৩য়: টিভি, ৪র্থ: স্মার্টফোন, ৫ম: চার্জার ফ্যান।

উল্লেখ্য: রেস্টুরেন্টের এই সাফল্য শুধুমাত্র ভালো খাবারের কারণে নয়, বরং ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা প্রদানের কারণে। শহরের খাদ্যপ্রেমীরা ইতোমধ্যেই এটি তাদের প্রিয় খাবারের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’