শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে আমানিয়া হোটেলের বর্ধিত অংশ ভাঙ্গনে প্রাণ ফিরছে মেহেরগোদা খালের

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৭ পিএম
শাহরাস্তিতে আমানিয়া হোটেলের বর্ধিত অংশ ভাঙ্গনে প্রাণ ফিরছে মেহেরগোদা খালের
শাহরাস্তিতে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে দখলমুক্ত হচ্ছে ঐতিহাসিক মেহেরগোদা খাল।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে পৌর শহরের ঠাকুর বাজার এলাকায় মেহের গোদা  খালের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত আমানিয়া হোটেলের ভৌত অবকাঠামো (স্থাপনার) বর্ধিত অবশিষ্ট অংশ ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়।
খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত ও দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত করতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক নাজমুল হাসান সরকারের নির্দেশনায় শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমার সার্বিক সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাঁদপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমুল শাহাদাত (ফাহিম)।অভিযানে উপজেলা রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, শাহরাস্তি থানা পুলিশ, শাহরাস্তি পৌরসভা এবং উপজেলা আনসার সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও সমন্বিত তৎপরতায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অভিযান সম্পন্ন হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ঠাকুর বাজার এলাকায় মেহেরগোদা খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিল। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিত এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল।
জনস্বার্থে খাল রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ধারাবাহিক উচ্ছেদ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমুল শাহাদাত (ফাহিম) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ঐতিহাসিক মেহেরগোদা খাল দখলমুক্ত করতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। খাল সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন বদ্ধপরিকর। পর্যায়ক্রমে খালের ওপর অবস্থিত সকল অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ মার্চ থেকে এক মাসব্যাপী শাহরাস্তি অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেহেরগোদা খালের মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ও পলিথিন অপসারণ, সংস্কার কাজ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিরুপম মজুমদারের সহযোগিতায় ভেকু মেশিন ব্যবহার করে গত ৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আমানিয়া হোটেলের আংশিক অংশ ভাঙা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার দ্বিতীয় ধাপের অভিযানে অবশিষ্ট অংশ ভেঙে খালটি দখলমুক্ত করা হলো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’