শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে প্রস্তুতি

১৮ ফেব্রুয়ারি রাত সেহরি গ্রহণ থেকে শুরু হবে পবিত্র মাহে রমজান। সুতরাং ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম রোজা ।

আলহাজ্ব আহমদ আলী পাটওয়ারী রহ.ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃক পরিচালিত হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে আসন্ন রমজান উপলক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে মোতওয়াল্লী আলহাজ প্রিন্স শাকিল আহমেদ বলেন,‘ মুসল্লিদের সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায় করতে মসজিদ কমপ্লেক্সসহ প্রাঙ্গণে প্রয়োজনীয় কাপড়ের দস্তর বিছানোর ব্যবস্থা রাখা ও সামিয়ানা টানানো,পর্যাপ্ত ওযুরস্থান ব্যবস্থাকরণ, প্রতি জুমার পর মসজিদ সংলগ্ন সকল কবরবাসীর জন্যে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা, রাতভর এবাদতের জন্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা জোরদার,নামাজ ও আযানের সাইন্ডসিস্টেম বজায় রাখা, ওয়াশব্লক সম্পুর্ণ পরিস্কার-পরিছন্নতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিদের্শনা প্রদান, রাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জুমার দিনে মহিলাদের নামাজ আদায়ে প্রয়োজনীয় পর্দাসহ ওযুর ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাহরি ও ইফতারের সময় যথাযথ নিয়মে সাইরেন বাজানো ও তাৎক্ষণিক উপস্থিত রোজাদারদের জন্যে সাধ্যমত ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। পবিত্র রমজানের মাসের ৫ ওয়াক্ত নামাজ তারাবীহ আদায়,পবিত্র কোরআন তেলায়েত,জিকির-আজকার,তসবীপাট ও অন্যান্য নফল এতাদত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় ধর্ম-প্রাণ মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দে অংশগ্রহণের জন্য এবারো জেলার সর্ববৃহৎ,প্রাচীন ও ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের পক্ষ থেকে এ সব বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ’

তিনি বলেন,‘ হাফেজ নিয়োগ, রমজানের শেষ ১০ দিন এতেকাপে প্রায় গড়ে ৩শ থেকে ৪শ-থেকে ৫শ খোদাভক্ত মুসুল্লীদের রাতভর ইবাদতের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা ও রমজান মাসে যাতে মুসল্লীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ও বেশি বেশি ইবাদতের জন্যে ২৪ ঘন্টাই মসজিদ খোলা রাখা হয়। জুমাতুল বিদাসহ রমজানের সকল জুমা দিনে নামাজ আদায়ে সব রকম ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’‘ হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে সকল জুমায় ও জুমআতুল বিদা’র দিনে সকাল ১০ টা থেকে জেলার বিভিন্ন্ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা,অধ্যাপক ব্যবসায়ী,ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,শিক্ষক,পর্দনশীল মহিলা ও ছাত্রসহ অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ মসজিদে সমবেত হন।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাগ্রহণে আন্তরিক রয়েছেন। ওয়াকফ এ্যাস্টেট সকল কর্মকর্তা,কর্মচারীগণ ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ সব সময়েই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এছাড়াও পবিত্র শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে কর্তৃপক্ষ। ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠানের সব দিকে উদ্যোগ নেয়া হয়ে থাকে। ’ তিনি প্রসঙ্গক্রমে আরোও বলেন,‘মুসলিম উম্মার জন্যে এ দিনটি জুমাতুল বিদা ও জুমার দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Model Hospital

প্রতিবছরের মতো এবারো জুমা ও জুমাতুল বিদা পালনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে সংশিষ্ট সবার দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ও ক্রমাগত সংখ্যা বৃদ্ধিতে নতুন নতুন ব্যবস্থা ও প্রাসঙ্গিক সকল সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ পৌরসভা,উপজেলা প্রশাসন, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, হাজীগঞ্জ থানা ও ট্রাফিক পুলিশ, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি এবং ব্যবসায়ীসহ এলাকার লোকজন সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন।’ নামাজ পড়াবেন মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি আবদুর রউফসহ পর্যায়েক্রমে আরো ২ জন।’

হাজীগঞ্জ আহমেদিয়া কাওমী মাদ্রাসার মোহতামীম ও হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের খতিবের দায়িত্বে নিয়োজিত হাফেজ মাও.মুফতি আবদুর রউফ বলেন,‘ রমজানের খতম তারাবিহ নামাজ পড়াতে ৩ জন ইমাম থাকবেন। আমিসহ ৩ জন হাফেজ পর্যায়ক্রমে নামাজ পড়াবেন। ২৭ রমজান কোরাান খতম সম্পন্ন হবে এবং দেশবাসীসহ সকল মুমিন মুসলমানদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণে ও দেশ, জাতি ও দেশের সার্বিক কল্যাণে বিশেষভাবে দোয়া পরিচালনা করা হবে। ’

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় জামে মসজিদের ব্যবস্থাপক মো.আবদুল্লাহ আল মামুন রাজু বলেন,‘প্রতি জুমা ও জুমাতুল বিধায় মুসল্লিগণের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে মসজিদ কমপ্লেক্সের পাশাপাশি হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট, রজনীগন্ধ্যা মার্কেট,কাওমী মাদরাসা ও মার্কেট, আলীয়া মাদরাসা ও প্লাজা মার্কেটে নামাজ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’ ঈদের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, আইন-শৃংখলা রক্ষায় পুলিশ ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক থাকে। মসজিদ এরিয়া ছাড়া হাজীগঞ্জ বাজার রোডে বিভিন্ন সুবিধাজনক স্থানে বিশেষ ওজুর ব্যবস্থা রাখা হয়। রমজানের শেষ দিকে এতেকাফে অংশগ্রহণকারীর বিভিন্ন প্রকার সেবা প্রদানে মসজিদ কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন।”

হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে যে সব প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচছন্নতা,আলোকসজ্জা, ইফতারের বিশেষ আয়োজন এবং সুশৃঙ্খলভাবে তারাবিহ নামাজের ব্যবস্থা গ্রহণ। জুমাতুল বিদায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগমকে সামনে রেখে এ সুবিশাল মসজিদে নামাজের জন্যে প্রস্তুতি, সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা। মহিলাদের জন্যে বিশেস ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি জুমার দিন নামাজ আদায়ের ব্যবস্থাকরা। আসন্ন রমজান উপলক্ষে ইতোমধ্যেই মসজিদের মিনারের দৃষ্ঠিনন্দন বাড়াতে সংস্কারমূলক কাজের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। জুমাতুল বিদায় রমজানের শেষ শুক্রবার উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ও অজু-নামাজের ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়া হয়, যেখানে লাখো মুসল্লি সমবেত হন ।

নামাজের সময়সূচি : ইফতার ও সেহরির সময়সূচি অনুযায়ী তারাবিহ ও প্রতিদিনের ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ঘোষণা ও নিশ্চিত করা হয়। রমজান পূর্বেই মসজিদ কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সাহরি ও ইফতারের ডিজিটাল ও প্রিন্টেড সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। মসজিদ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ইবাদত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

ইফতার আয়োজন : প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোজাদারের জন্য মসজিদের পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগতদের জন্যে থাকে এ ব্যবস্থা। উল্লেখ্য- হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের ন্যায় ২০২৬ সালেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।