শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সুবিদপুর কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
সুবিদপুর কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

চট্টগ্রামে বসবাসরত চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের অধিবাসীদের সংগঠন “সুবিদপুর কল্যাণ সমিতি – চট্টগ্রাম শাখা”-এর উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিল ও ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গত ৬ মার্চ ২০২৬ নগরীর কশবন রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামে অবস্থানরত সুবিদপুর গ্রামের বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্যকে সামনে রেখে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত সকলের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে সুবিদপুর গ্রামের প্রয়াত ব্যক্তিবর্গের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সকলের কল্যাণ কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। পরবর্তীতে সম্মিলিতভাবে ইফতার গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব সম্পন্ন হয়।

ইফতার শেষে সমিতির চট্টগ্রাম শাখার এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সালেহ পাটওয়ারী। সভা পরিচালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারি সিটি কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক গোলাম খাজা ভূঁইয়া।

সভায় সূচনা বক্তব্য ও অতিথিদের স্বাগত জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল যাত্রা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করলেও সুবিদপুর গ্রামের মানুষ যেন পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, সে লক্ষ্যেই সমিতি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Model Hospital

এ সময় সমিতির সহ-সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম মল্লিক ধন্যবাদ জ্ঞাপনমূলক বক্তব্যে বলেন, প্রবাসে অবস্থানরত সুবিদপুরবাসীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করা সমিতির অন্যতম লক্ষ্য। তিনি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, সুবিদপুর কল্যাণ সমিতি – চট্টগ্রাম শাখা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সুবিদপুর গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে সুবিদপুর কল্যাণ সমিতি (ঢাকা শাখা)-এর সহযোগিতায় গ্রামের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং দরিদ্র মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রামে বসবাসরত সুবিদপুর গ্রামের পরিবারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, গ্রামের উন্নয়নে প্রবাসে থাকা শিক্ষিত ও সচেতন মানুষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুবিদপুরকে একটি উন্নত ও আদর্শ গ্রামে পরিণত করা সম্ভব।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাউছার ভূঁইয়া, অর্থ সম্পাদক আব্দুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাহবুব হাসান, নির্বাহী সদস্য মোঃ জাহিদুল হক পাটওয়ারী ও মোঃ রিয়াজুল ইসলাম। এছাড়াও সাধারণ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আবরার ফাইয়ান, আব্দুর রহমান আহনাফ এবং রাগিব ইসলামসহ সমিতির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

সভা শুরুর পূর্বে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সালেহ পাটওয়ারী। তিনি মোনাজাতে সুবিদপুর গ্রামের প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং সমিতির সার্বিক অগ্রগতি ও সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানটি এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিত সদস্যরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মিলনমেলা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’