শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা কারাগারে নববর্ষ উদযাপন, বন্দিদের চোখে আনন্দের ঝিলিক

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩১ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে নববর্ষ উদযাপন, বন্দিদের চোখে আনন্দের ঝিলিক

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা কারাগার-এ বন্দি ও স্টাফদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে।

নববর্ষের সকালে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। সকালের মেন্যুতে ছিল পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ, আলুর দম, মরিচ ও পেঁয়াজ। দুপুরে পরিবেশন করা হয় পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, ডিম, মিষ্টি, কোমল পানীয়, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে ছিল সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম।

কারা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্দিদের নিয়ে দিনব্যাপী ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়। এতে হাডুডু খেলার পাশাপাশি নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি এবং বিভিন্ন সৃজনশীল পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়, যা বন্দিদের মাঝে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, কারাগারের স্টাফদের জন্যও পৃথকভাবে নববর্ষের আয়োজন করা হয়। সকালের নাস্তায় ছিল পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ, আলু ভর্তা, মরিচ ও পেঁয়াজ। দুপুরের খাবারে পোলাও, গরু ও মুরগির মাংস, ডাল, সালাদ ও কোমল পানীয় পরিবেশন করা হয়। রাতের খাবারে ছিল সাদা ভাত ও মাছ।

Model Hospital

স্টাফদের জন্য ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল শিশুদের বিস্কুট দৌড়, মহিলাদের চেয়ার খেলা এবং বড়দের হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয়।

এছাড়া চাঁদপুর জেলা প্রশাসন-এর উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলায় (১৪ ও ১৫ এপ্রিল) কারাগারের জন্য একটি স্টল বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। সেখানে বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

নববর্ষ উদযাপন শেষে চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও নববর্ষের শুভকামনা জানান। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য প্রতীক। কারাগার শুধু শাস্তির স্থান নয়, এটি সংশোধন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও আনন্দঘন আয়োজন বন্দিদের মানসিক প্রশান্তি দেয়, তাদের মাঝে ইতিবাচক চিন্তা ও নতুনভাবে জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা জাগায়।

তিনি আরও বলেন, নববর্ষ নতুন সম্ভাবনা, নতুন আশা ও নতুন সূচনার বার্তা নিয়ে আসে। আমরা চাই, কারাগারের ভেতরেও এই উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক, যাতে বন্দিরা নিজেদের সমাজের অংশ মনে করতে পারে। কারা প্রশাসন সবসময় বন্দিদের মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে। নতুন বছর ১৪৩৩ সবার জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’