বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—গ্রাম বাংলার কাচারি ঘর

পারভেজ মোশারফ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪০ পিএম
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—গ্রাম বাংলার কাচারি ঘর

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আভিজাত্যের এক অনন্য প্রতীক—কাচারি ঘর। একসময় গ্রামের সম্ভ্রান্ত ও সচ্ছল পরিবারগুলোর গৌরবের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ঘরটি। বাড়ির সামনের আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা কাচারি ঘর কেবল একটি স্থাপনা ছিল না; এটি ছিল একটি জীবন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—মানুষ গড়ার এক অনন্য কারখানা।

আজকের শহুরে ড্রয়িংরুম যেমন অতিথি আপ্যায়ন, আলাপ-আলোচনা ও সামাজিকতার কেন্দ্র, ঠিক তেমনি গ্রামের কাচারি ঘর ছিল বহুমাত্রিক কার্যক্রমের এক প্রাণকেন্দ্র। এখানে থাকতেন লজিং হুজুর বা শিক্ষকরা—যারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। তারা শুধু নিজেদের পড়াশোনাই চালিয়ে যেতেন না, একই সঙ্গে বাড়ির শিশু-কিশোরদের শিক্ষা দিতেন এবং পরিবার ও সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত থাকতেন।

কাচারি ঘরের শিক্ষাব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও মানবিক। ভোরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠত এই ঘর। ফজরের নামাজ শেষে শুরু হতো পাঠদান। শিশু-কিশোরদের শেখানো হতো কোরআন তিলাওয়াত, নামাজের নিয়ম-কানুন, আদব-কায়দা, শিষ্টাচার ও নৈতিকতা। এখানে শিক্ষা মানে শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়—বরং একজন শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া।

এই লজিং হুজুরদের জীবনযাপনও ছিল সমাজনির্ভর ও আন্তরিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তারা সাধারণত ওই বাড়ির মসজিদে নামাজ পড়াতেন, বাড়ির বিভিন্ন সদস্যদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। খাবারের জন্য তারা একেকদিন একেক ঘরে খেতেন—যা ছিল পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসার নিদর্শন। একসময় বাড়ির প্রতিটি পরিবার থেকে সপ্তাহিক ভিত্তিতে চাল দেওয়া হতো এই লজিং হুজুরদের জন্য। পরবর্তীতে সময়ের পরিবর্তনে এই প্রথার পরিবর্তন হয়ে অর্থ প্রদানের প্রচলন শুরু হয়।

Model Hospital

কাচারি ঘরের আশেপাশের পরিবেশও ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব। সাধারণত বাড়ির সামনের দিকে স্থাপিত এই ঘরের পাশে থাকত পুকুরঘাট, মসজিদ বা নামাজের মাচা, পানির পাম্প বা ডিপ টিউবওয়েল, পুরুষদের ব্যবহারের নির্দিষ্ট স্থান এবং শিশুদের খেলার মাঠ। পুরো পরিবেশটি যেন একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করত।

কিন্তু সময়ের বিবর্তন, আধুনিকতার প্রভাব এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের ব্যস্ততায় আজ সেই কাচারি ঘরের অস্তিত্ব ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই ঘরের নাম পর্যন্ত জানে না, জানে না ভোরের সেই শিক্ষার অনুভূতি, জানে না সমাজভিত্তিক শিক্ষার সেই মানবিক রূপ।

আজকের শিশুরা হয়তো স্কুল, কোচিং কিংবা ডিজিটাল মাধ্যম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে, কিন্তু জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—নৈতিকতা, মানবিকতা, আদব ও মূল্যবোধ—সেখান থেকে অনেকটাই দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে সমাজে দিন দিন নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের সংকট প্রকট হয়ে উঠছে।

একসময় একটি কাচারি ঘর থেকেই একটি শিশুর চরিত্র গঠনের সূচনা হতো। আজ সেই জায়গাগুলো পড়ে আছে নীরব, পরিত্যক্ত ও অবহেলিত। অথচ আমাদের সমাজ আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অনুভব করছে সেই মানবিক শিক্ষা, সেই নৈতিক ভিত্তির।

আমরা কি একবারও ভাবছি—কোথায় হারিয়ে ফেলেছি আমাদের সেই শিকড়? সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতার মাধ্যমে কি আমরা আবার ফিরিয়ে আনতে পারি না সেই কাচারি ঘরের সংস্কৃতি? হয়তো আধুনিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন রূপে আবার গড়ে তোলা সম্ভব এই শিক্ষা কেন্দ্রগুলো—যেখানে শিশুরা শিখবে কেবল পাঠ্যবই নয়, শিখবে মানুষ হওয়ার শিক্ষা।

গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে না হোক, অন্তত প্রতিটি মহল্লা বা পাড়ায় যদি একটি করে কাচারি ঘর পুনর্গঠন করা যায়—তাহলে হয়তো আবারও শুরু হবে নতুন প্রজন্মের নৈতিক ও মানবিক বিকাশের এক নতুন অধ্যায়।

শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।