শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাকিবকে ডুবিয়ে হত্যার পর রশি দিয়ে পানির নিচে বেঁধে রাখে মরদেহ

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম
শাকিবকে ডুবিয়ে হত্যার পর রশি দিয়ে পানির নিচে বেঁধে রাখে মরদেহ

নিহত শাকিব ও তার খুলি কঙ্কাল উদ্ধার, বামে গ্রেপ্তারকৃত আরমান গাজী ও মেহেদী হাসান গাজী।

​চাঁদপুরের কচুয়ায় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ক্লুলেস স্কুলছাত্র শাকিব হাসান (১৩) হত্যার রহস্য দীর্ঘ আট মাস পর উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর উদ্ধারকৃত মাথার খুলি ও হাড়ের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি নিখোঁজ শাকিবের দেহাবশেষ।

​মামলা সূত্রে জানা যায় , গত ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুরে জয়নগর গ্রামের গাজী বাড়ির আব্দুল কাদেরের ছেলে শাকিব হাসান নিজের ঘরে অবস্থান করছিল। এসময় অজ্ঞাত কেউ নাম ধরে ডাকলে সে ঘর থেকে বের হয়ে যায় এবং এরপর থেকেই নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার সন্ধান না পেয়ে তার দাদা মোন্তাজ উদ্দিন কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ছেলের নিখোঁজের সংবাদ শুনে সৌদি আরব থেকে দেশে ছুটে আসেন বাবা আব্দুল কাদের।

গত ​২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জনৈক মোস্তফা তার কৃষি জমিতে ঘাস পরিষ্কার করার সময় মানুষের মাথার খুলি ও হাড় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে খুলি ও ৭টি হাড় উদ্ধার করে একটি অপমৃত্যু মামলা (নং-০২/৫৬) দায়ের করে। পরবর্তীতে কঙ্কালের অবশিষ্টাংশ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়। দীর্ঘ পরীক্ষা শেষে ডিএনএ রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উদ্ধারকৃত দেহাবশেষটি নিখোঁজ শাকিবেরই।

জানা যায়,  ​ডিএনএ ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর গত ০৭ মে ২০২৬ তারিখে শাকিবের বাবা বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম তদন্তে নামে।

Model Hospital

​তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গত ৯ মে সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আরমান গাজী (১৭), পিতা আবু কালাম (দাদন গাজী) ও মোঃ মেহেদী হাসান গাজী (১৭), পিতা- আক্কাস আলী গাজী উভয়ই জয়নগর গ্রামের গাজী বাড়ির বাসিন্দা।

​জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা দেয়। তারা জানায়, পুকুরে গোসল করার সময় তারা শাকিবকে পানির নিচে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মরদেহটি রশি দিয়ে পানির নিচে বেঁধে রাখে। রাত গভীর হলে তারা মরদেহটি পানি থেকে তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে এবং ইটের সাথে বেঁধে পুকুরের ডোবায় ডুবিয়ে দেয় যাতে লাশ কখনো ভেসে না ওঠে।

১০ মে ২০২৬ তারিখ আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক নিজেদের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি প্রদান করে।

এ ব্যাপারে ​কচুয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম জানান, ​এটি একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। কোনো ক্লু না থাকায় মামলাটি তদন্ত করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত করি।  ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’