শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে চাঁদপুরের সাংবাদিকদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:০০ পিএম
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে চাঁদপুরের সাংবাদিকদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চাঁদপুরের  প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনায়  এ কর্মশালার আয়োজন করে চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়। জাতীয় পুষ্টিসেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে।

Model Hospital

তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিটি যোগ্য শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

সিভিল সার্জন আরও জানান, জেলার সকল উপযুক্ত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা এ কার্যক্রম সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পেইনের দিন কোনো শিশু বাদ পড়লে তাদের খুঁজে বের করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘বাদপড়া শিশু অনুসন্ধান কার্যক্রম’ পরিচালনা করা হবে। এ কার্যক্রমের আওতায় মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতকৃত ওয়ার্ড ম্যাপ অনুযায়ী প্রতিটি সাব-ব্লকে প্রতিদিন দুটি বিশেষ দল সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু করবে। প্রতিটি দলে দুইজন করে মাঠকর্মী থাকবেন। তারা প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন বাদপড়া শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবেন। চার দিনের মধ্যে পুরো ওয়ার্ডের অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা গেলে কোনো শিশু এ কার্যক্রম থেকে বাদ পড়বে না এবং ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অপুষ্টি প্রতিরোধে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি। এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যদি সঠিক ও নির্ভুল তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, তাহলে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং কোনো শিশু যেন এই কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়ে তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তিনি জাতীয় স্বার্থে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুধু একটি স্বাস্থ্য কর্মসূচি নয়, এটি শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতার ওপর। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই ক্যাম্পেইন সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জেলার প্রতিটি অভিভাবকের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় জেলার শতভাগ যোগ্য শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আহম্মদ,দৈনিক চাঁদপুর সময়ের প্রধান সম্পাদক এম ফরিদুল ইসলাম উকিল,দৈনিক আদি বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এমরান হোসেন রাজন  ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়ের, চাঁদপুর জেলা ফটোজার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি  এড:ইয়াসিন ইকরাম,দৈনিক প্রিয় চাঁদপুর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বোরহান উদ্দিন ডালিম, দৈনিক শপথের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো:ফরিদ হাসান, দৈনিক চাঁদপুর দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মুহাম্মদ  ইলিয়াছ পাটওয়ারী, দৈনিক চাঁদপুর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কে মাসুদ ও বাংলাদেশের আলোর চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী।

কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’