শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে নিরাপদ অভিবাসন ও অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় এমআরপিসির অর্ধবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:০২ পিএম
চাঁদপুরে নিরাপদ অভিবাসন ও অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় এমআরপিসির অর্ধবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে নিরাপদ অভিবাসন ও অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করা মাইগ্রেশন রাইটস অ্যান্ড প্রটেকশন কমিটি (এমআরপিসি)-এর অর্ধবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (সিসিডিএ)-এর আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঠিক তথ্য প্রদান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে প্রতারণা ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের সঠিক তথ্য ও পরামর্শ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। দালাল ও প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দিয়ে সরকারি অনুমোদিত মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, দালাল ও প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা সম্পর্কে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশগমনের তথ্য প্রচারে সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপদ শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এ লক্ষ্যে চাঁদপুর প্রেসক্লাব সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে যাবে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিসিডিএর জেলা সমন্বয়ক মো. নাজমুল আহসান।

এ সময় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর  প্রেসক্লাবের  সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, সিসিডিএর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এ কে এম মাহাতাব উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ সাফায়েত হুসাইন, চাঁদপুর জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট রুজি আক্তার, হাজীগঞ্জ পৌরসভা এমআরপিসি সদস্য জিয়াউর রহমান, তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন এমআরপিসি সভাপতি মোঃ নাজমুল হাসান

সভায় উপস্থিত ছিলেন এমআরপিসি কমিটির সদস্য, অভিবাসী পরিবারের সদস্য, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পাসপোর্ট অফিস, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জেলা মাইগ্রেশন সমন্বয় কমিটির প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, শ্রম অভিবাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিসিডিএ ২০০৭ সাল থেকে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় সুইস ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন (এসডিসি) এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় চাঁদপুর জেলার সদর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার ৩৭টি ইউনিয়ন এবং ৫টি পৌরসভায় ‘Strengthened and Informative Migration Systems (SIMS) Phase-II’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৪ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনি সহায়তা প্রদান, আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’