মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকটি ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা ও সুরকি। রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। কখন জানি ছাদ ভেঙে পড়ে মাথার উপর  এ নিয়ে হাসপাতালের ভিতরে রোগীরা থাকে শঙ্কায়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।
মতলব দক্ষিণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বিভিন্ন সংকটে ভুগছে। হাসপাতালে চিকিৎসক থাকার কথা ৪০ জন কিন্তু বর্তমানে আছে ১৮ জন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা ১৯২ কিন্তু আছে ১১৬ জন। রয়েছে নার্স সংকট। নেই এনেস্থিসিয়া ডাক্তার। হচ্ছে না কোনো সিজারিয়ান অপারেশন। হাসপাতালে নেই এম্বুল্যান্স। নেই এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।
সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার শত শত রোগী আসে চিকিৎসা সেবা নিতে। কেউ সিটে আবার কেউ কেউ আছে ফ্লোরে। হাসপাতাল ভবনের প্রথম তলা, দ্বিতীয় তলায় ছাদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ওই স্থানগুলো থেকে পলেস্তারা ও সুরকি ভেঙে পড়ছে।অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগের রোগীরা ওই স্থানগুলো এড়িয়ে চলছেন। আর যখন বাধ্য হয়ে ওই স্থান ব্যবহার করছেন, তখন তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শুধু রোগীই নন, এমন আতঙ্ক দেখা গেছে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যেও।
মতলব উত্তর উপজেলার ইন্দুরিয়া গ্রামের ছানাউল্লাহ বলেন, মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম তিনদিন। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে মেয়ের ওষুধ আনার জন্য বাইরে যাচ্ছিলাম। হাঁটছি আর আতঙ্ক নিয়ে বারবার ছাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। তিনি আরও বলেন, দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামার পরেই ছাদের ফাটলের স্থান। মাঝে মধ্যেই সিমেন্ট ও সুরকির বড় বড় অংশ পড়ছে। এ স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় ভয় লাগে। এভাবে একটি হাসপাতালে থাকা যায় না। ভয়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে।
উপজেলার বরদিয়া এলাকার আরেক রোগী শাহনাজ বেগম বলেন, হাসপাতালে মানুষ আসে সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু এই হাসপাতালে এসে থাকি আতঙ্কে। কোন সময় যেনো মাথায় ভেঙে পড়ে ছাদ। হাসপাতাল ভবনের অনেক জায়গায় ভেঙে ভেঙে পড়েছে। আবার হাসপাতালে পরিক্ষা নিরিক্ষা করার জন্য নাই কোনো মেশিন। পর্যাপ্ত মেশিন ও ভবন সংস্কার করার জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি।
ফারজানা নামের এক রোগীর অভিভাবক জানান, এক ঘণ্টা ধরে তাঁরা চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সবার নজর একটু পরপরই ছাদের দিকে। কারণ কখন ছাদের পলেস্তারা খসে তাঁদের ওপর পড়ে। আতঙ্কে থাকতে হয়েছে যতক্ষণ হাসপাতালে অবস্থান করছি।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বনিক বলেন, হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রথম তলা ও দ্বিতীয় তলার ছাদে ফাটল আছে। খসে খসে পড়ছে পলেস্তারা, ইটের সুরকি ও সিমেন্ট বালুর মিশ্রণ। জনসাধারণকে সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন স্থানে লিফলেট লাগানো হয়েছে। আমরা চিকিৎসকরা সঠিকভাবে নিয়মিত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, হাসপাতালের পলেস্তারা ভেঙে খসে পড়ছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালে মেশিন সরঞ্জাম ও চিকিৎসক, নার্সসহ জনবল সংকট রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম বলেন, হাসপাতালের ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে এ ব্যাপারে আমি জেনেছি। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।