শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বেইলি সেতু ধসে পড়ে চাঁদপুরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩১ পিএম
বেইলি সেতু ধসে পড়ে চাঁদপুরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর নির্মিত বেইলি সেতু ভেঙে ইটবোঝাই বাল্কহেডের ওপর পড়েছে। এ ঘটনায় বাল্কহেডের চালক, সুকানি, সহকারী ও ১৭জন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান।

রোববার (২ আগস্ট) শ্রমিক কাশেম মিয়া বলেন, ‘বাল্কহেড থেকে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পেলেও মুঠোফোন, টাকা, ব্যাগে থাকা পোশাক, ঘুমানোর চাদরসহ বিভিন্ন সামগ্রীর কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বেইলি সেতুর একাংশ খালে উল্টে পড়ে আছে। পানিতে ডুবে আছে একটি নৌকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বারবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সেতু ধসের কারণে এখন খামারপাড়া, গৌরীপুর ও মতলবগামী মানুষকে বিকল্প পথে ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। নৌকা ছাড়া বিকল্প কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনেও মানুষ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

Model Hospital

স্থানীয় ব্যবসায়ী মজনু মিয়া অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের বর্ষা ও বৃষ্টিতে সেতুর পাটাতন মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই পাটাতন দেবে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটত। এ কারণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি মেরামতের কাজ শুরু করে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় শ্রমিকরা না বুঝেই বেইলি সেতুর সংযোগের নাট খুলে ফেলেন। এতে পুরো সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর মেরামতকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সেতুটি ভেঙে পড়ায় ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দাউদকান্দি উপজেলার পাশাপাশি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ব্রীজ টি খুলে ফেলার জন্য একজন ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছিল । খোলার সময় অজ্ঞতার কারণে বৃষ্টি ভেঙে নিচে পড়ে যায় । এখানে নতুন করে ব্রিজ তৈরি করা হবে ।

কচুয়া পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা মাসুদ রানা মিয়াজীর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
কচুয়া পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা মাসুদ রানা মিয়াজীর

পালাখাল মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা দেন মাসুদ রানা মিয়াজী।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৪নং পালাখাল মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন চাঁদপুর জেলা জাতীয়তাবাদী সংগ্রামী দলের সভাপতি ও কচুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো. মাসুদ রানা। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বক্সগঞ্জ বাজারে স্থানীয় গ্রামবাসী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মো. মাসুদ রানা তার রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। পায়ে ডান্ডা-বেরি নিয়ে অসংখ্য দিন জেল খেটেছি। এ সময় বহু হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি।

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।” তিনি বলেন, “এলাকাবাসী চাইলে এবার পালাখাল মডেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। আমি জনগণের মতামত ও সমর্থনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।” মাসুদ রানা আরও বলেন, নির্বাচিত হলে তার প্রিয় নেতা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন এমপির মাধ্যমে পালাখাল মডেল ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, যোগাযোগসহ সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থেকে সেবা করার চেষ্টা করবেন। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

Model Hospital

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মাসুদ রানার ঘোষণাকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।