শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি পৌরসভার উদ্যোগে ১৭ প্রতিষ্ঠানে ৩৩৮টি চারা বিতরণ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ পিএম
শাহরাস্তি পৌরসভার উদ্যোগে ১৭ প্রতিষ্ঠানে ৩৩৮টি চারা বিতরণ
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ৩৩৮টি বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ বিতরণ  করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে পৌরসভার আয়োজনে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে এতে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও), পৌর প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন। বিতরনকৃত চারার মধ্যে রয়েছে ৬৭টি আম, ৬১টি জাম, ৫৭টি কৃষ্ণচূড়া, ৪৬টি আমলকি, ৪০টি নিম, ৩৪টি হরতকী ও ৩৩টি নারিকেল গাছ। মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠানে ৩৩৮টি
 চারা বিতরণ  করা হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পশ্চিম উপলতা সপ্রাবি, কাজিরকামতা সপ্রাবি , বাদিয়া এম হক উবি, সুয়াপাড়া গোলাম কিবরিয়া উবি, নাওড়া কুরফুলেনেছা  মহিলা কলেজ, নাওড়া পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান  উবি , মেহের ডিগ্রি কলেজ, উপলতা উবি,  শাহরাস্তি সরকারি  বহুমুখী উবি, শাহরাস্তি মডেল স্কুল, নিজমেহের পাইলট উবি, জামিয়া ইসলামিয়া ওয়াদুদিয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসা, ভাটিনীখোলা সপ্রাবি, কৃষ্ণপুর খামার বাড়ি জামে মসজিদ, নোয়াগাঁও উবি, নোয়াগাঁও সপ্রাবি এবং শাহরাস্তি প্রেসক্লাব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও, পৌর প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন বলেন, “একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি করবে।
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার যত্ন নিলে সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল হোসেন, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমান, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রশীদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইসহাক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নোমান হোসেন এবং প্রধান সহকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুবায়ের আল নাহিয়ান রাজু এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল।
গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, মইনুল ইসলাম কাজল, মো. মাসুদ রানা, নোমান হোসেন আখন্দ, ফয়সাল আহমেদ ও আবু মুসা আল সিহাব।
এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুধীজন এবং পৌরসভার সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’