শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া কর‌ইশ সপ্রাবি’র নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
কচুয়া কর‌ইশ সপ্রাবি’র নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

কচুয়ায় কর‌ইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা ও নবনির্বাচিত কমিটি।

কচুয়া পৌরসভাধীন কর‌ইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবগঠিত বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত সদস্যরা। বুধবার (১৯আগস্ট) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক  মোঃ ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল আলমের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ বিল্লাল হোসেন মজুমদার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব আলম মৃধা, প্রফেসর ন‌ওশের আলম,কচুয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ তরিকুল ইসলাম তরিক, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম, উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মোঃ শাখাওয়াত হোসেন শাক্কু, প্রবাসী নেতা ইউসুফ হোসেন,পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম জাহিদ প্রমুখ। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সকল সদস্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং একটি আধুনিক, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’