শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পৌরসভার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০২২, ১০:১৩ এম
শাহরাস্তিতে পৌরসভার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার  বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে পৌরসভা কমপ্লেক্স আলোকসজ্জা, প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কেক কাটা কর্মসূচি এবং দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে(১৭- মার্চ) শাহরাস্তি পৌরসভার উদ্যোগে পৌরসভা মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, “বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অঙ্গীকার, সকল শিশুর সমান অধিকার, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কেক কাটা কর্মসূচি মিলাদ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক, পৌর আ’লীগের আহবায়ক, পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ।
তিনি তার বক্তব্য, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। আজ সেই মহান নেতার জন্মদিন। বাংলাদেশ আজ যে উন্নয়নের শিখরে আহরণ করছে সেটি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্নগুলো একে একে  বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাযজ্ঞে পৌঁছে দিচ্ছেন। আগামী তথা নতুন প্রজন্ম এবং শিশু-কিশোররা এই সুবিধাগুলো ভোগ করবে। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং দেশপ্রেম নীতিকে সমুন্নত রেখে আগামী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে উপস্থিত সবাইকে আহ্বান জানান।
এছাড়া আগামী দিনগুলিতে শাহরাস্তি পৌরসভা উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নের সকলের সহযোগিতা আশা পোষণ করেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের কিংবদন্তি স্বাধীনতা যুদ্ধের ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ মেজর অবঃ রফিকুল ইসলাম  ইসলাম বীর উত্তমের  স্বাধীনতাযুদ্ধে এবং আধুনিক শাহরাস্তি বিনির্মাণে  অবদানের কথা স্মরণ করে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,শাহরাস্তি পৌরসভার প্রথম শ্রেণীর সচিব রোটারিয়ান তোফায়েল আহামেদ শেখ, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী হুমায়ুন কবির, সহকারী প্রকৌশলী নেয়াজুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী  মো. হাসানুজ্জামান, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পরিদর্শক সাইদুর রহমান, পৌরসভার প্রধান সহকারী মো: নজরুল ইসলাম, হিসাব শাখা প্রদান বাবু মানিক লাল।
কাউন্সিলরদের মধ্যে, প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর মোঃ শাহাবুদ্দিন, মিজানুর রহমান, রাবেয়া বসরি বকুল প্রমুখ।
এছাড়া পৌরসভার কাউন্সিলর, বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী, সুধীজন, রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন স্থানীয় আলেম হাফেজ মাওলানা আবু সালেহ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’