বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শাহমাহমুদপুরে অঙ্গ সংগঠনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ পিএম
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শাহমাহমুদপুরে অঙ্গ সংগঠনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন তাঁতীদলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম গাজীর সার্বিক সহযোগিতায় এদিন ইউনিয়নের কর্দিপাঁচ গাঁও খানবাড়ি (মাস্তান বাড়ি) সড়ক হতে ভাটেরগাঁও খায়ের মার্কেট পর্যন্ত সড়কে ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছের চারা সহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপন করা হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. জসিম উদ্দিন মেহেদী, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ।
এসময় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলার লক্ষ্যে দেশে ৫ বছরের ২৫ কোটি গাছের চারা রোপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা দলীয় নেতাকর্মীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে আজকে আমরা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের নির্দেশে এখানে বৃক্ষরোপণ করছি। পাশাপাশি প্রত্যেকটা জায়গায় আমাদের নেতাকর্মীরা গাছের চারা রোপণ করছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ-সবুজ পৃথিবী উপহার দেওয়াই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।
উক্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও ইউপি সদস্য কবির হোসেন রনি, সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী, সাইফুল ইসলাম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক কবিরাজ, ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সোহেল হোসেন সোহাগ, বিএনপি নেতা ইকবাল খান, মোবারক হোসেন গাজী, মানিক পাটওয়ারী, আক্তার হোসেন, কাজী রাসেল, সমাজসেবক আঃ রহিম ভুইয়া।
এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আরিফ তালুকদার, সাবেক সহ সভাপতি সাজ্জাদুল হক সোহাগ, সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল সোহেল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহমাহমুদ সেলিম, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক জুলহাস পাটওয়ারী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মিজি, ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সজিব পাটওয়ারী, ইউনিয়ন মৎসজীবি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ গাজী সহ বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় কাজী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুর রহিম।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।