শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শাহমাহমুদপুরে অঙ্গ সংগঠনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ পিএম
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শাহমাহমুদপুরে অঙ্গ সংগঠনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন তাঁতীদলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম গাজীর সার্বিক সহযোগিতায় এদিন ইউনিয়নের কর্দিপাঁচ গাঁও খানবাড়ি (মাস্তান বাড়ি) সড়ক হতে ভাটেরগাঁও খায়ের মার্কেট পর্যন্ত সড়কে ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছের চারা সহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপন করা হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. জসিম উদ্দিন মেহেদী, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ।
এসময় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলার লক্ষ্যে দেশে ৫ বছরের ২৫ কোটি গাছের চারা রোপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা দলীয় নেতাকর্মীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে আজকে আমরা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের নির্দেশে এখানে বৃক্ষরোপণ করছি। পাশাপাশি প্রত্যেকটা জায়গায় আমাদের নেতাকর্মীরা গাছের চারা রোপণ করছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ-সবুজ পৃথিবী উপহার দেওয়াই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।
উক্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও ইউপি সদস্য কবির হোসেন রনি, সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী, সাইফুল ইসলাম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক কবিরাজ, ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সোহেল হোসেন সোহাগ, বিএনপি নেতা ইকবাল খান, মোবারক হোসেন গাজী, মানিক পাটওয়ারী, আক্তার হোসেন, কাজী রাসেল, সমাজসেবক আঃ রহিম ভুইয়া।
এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আরিফ তালুকদার, সাবেক সহ সভাপতি সাজ্জাদুল হক সোহাগ, সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল সোহেল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহমাহমুদ সেলিম, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক জুলহাস পাটওয়ারী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মিজি, ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সজিব পাটওয়ারী, ইউনিয়ন মৎসজীবি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ গাজী সহ বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় কাজী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুর রহিম।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’