সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তির শংকরপুরে জামিনে এসে স্বাক্ষীকে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ !

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৭ এম
শাহরাস্তির শংকরপুরে জামিনে এসে স্বাক্ষীকে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ !
শাহরাস্তিতে একটি মামলায় জামিনে এসে বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা, অশালীন গালিগালাজ এবং হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঘটনাস্থল।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের শংকরপুর কাজী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল শংকরপুর কাজী বাড়িতে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বাড়ির মৃত কাজী শাহজাহানের ছেলে ও ঢাকার ঔষধ ব্যবসায়ী কাজী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বাদী হয়ে গত ২৩ এপ্রিল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাজী খোরশেদ আলম, কাজী অনিক, কাজী অন্তর, কাজী ঐশ্বর্য, কাজী ইসমাইল, মেহেদী হাসান, কাজী রবিউল ও কাজী নাজির হোসেন টিটুসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি সিআর ১২৩/২০২৬ নম্বরে বিচারাধীন।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ১২ নভেম্বর তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর আসামিরা আগাম জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করলে ছয়জনের জামিন মঞ্জুর হয়। তবে ২ নম্বর আসামি কাজী অনিকের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন বিকেলে কাজী অনিকের জামিন না হওয়ার খবর বাড়িতে পৌঁছালে তার চাচা শাহআলম ও মামলার ৮ নম্বর আসামি কাজী নাজির হোসেন টিটু বাদী কাজী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, মামলার ১ নম্বর সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবিরসহ অন্য সাক্ষীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় মামলার ১ নম্বর সাক্ষী কাজী হুমায়ুন কবির জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহরাস্তি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর জামিনপ্রাপ্ত আসামি কাজী অন্তর, কাজী ইসমাইল, মেহেদী হাসান, কাজী রবিউল ও কাজী ঐশ্বর্যসহ কয়েকজন মামলার ১ নম্বর সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবিরকে মারধরের উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাণরক্ষায় তিনি নিজ বাড়িতে প্রবেশের সময় তার পিঠে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং আসামিরা বাড়ির গেট ধাক্কাধাক্কি করে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় কাজী খোরশেদ আলম তাদের হামলায় উসকানি ও সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ছানা উল্লাহ, বেলাল, বাচ্চু মিয়া, স্বপন পাটোয়ারী, রফিক, শরীফ পাটোয়ারী, রুবেল ও মনির হোসেনসহ স্থানীয় লোকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে প্রকৃত ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপনের জন্য বক্তব্য দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের পক্ষ থেকে আইনগত নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

মক্তবে যাওয়ার পথে সড়কে থেমে গেল রাফিয়ার জীবন

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৭ পিএম
মক্তবে যাওয়ার পথে সড়কে থেমে গেল রাফিয়ার জীবন

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মক্তবে যাওয়ার পথে প্রাইভেটকারের চাপায় রাফিয়া আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার ভোরে হাজীগঞ্জ-গৌরীপুর সড়কের পাতানিশ মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাফিয়া উপজেলার পাতানিশ গ্রামের বেপারী বাড়ির এমরান বেপারীর মেয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন জানান, ভোরে মক্তবে পড়তে যাওয়ার সময় সড়ক পার হচ্ছিল রাফিয়া। এ সময় একটি মাইক্রোবাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মেয়েকে হারিয়ে বাবা এমরান বেপারী বলেন, “সকালে মক্তবে পড়তে পাঠাইছি। আমার মেয়ে লাশ হয়ে ফিরলো।”

Model Hospital

এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।