বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তির শংকরপুরে জামিনে এসে স্বাক্ষীকে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ !

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৭ এম
শাহরাস্তির শংকরপুরে জামিনে এসে স্বাক্ষীকে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ !
শাহরাস্তিতে একটি মামলায় জামিনে এসে বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা, অশালীন গালিগালাজ এবং হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঘটনাস্থল।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের শংকরপুর কাজী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল শংকরপুর কাজী বাড়িতে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বাড়ির মৃত কাজী শাহজাহানের ছেলে ও ঢাকার ঔষধ ব্যবসায়ী কাজী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বাদী হয়ে গত ২৩ এপ্রিল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাজী খোরশেদ আলম, কাজী অনিক, কাজী অন্তর, কাজী ঐশ্বর্য, কাজী ইসমাইল, মেহেদী হাসান, কাজী রবিউল ও কাজী নাজির হোসেন টিটুসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি সিআর ১২৩/২০২৬ নম্বরে বিচারাধীন।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ১২ নভেম্বর তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর আসামিরা আগাম জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করলে ছয়জনের জামিন মঞ্জুর হয়। তবে ২ নম্বর আসামি কাজী অনিকের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন বিকেলে কাজী অনিকের জামিন না হওয়ার খবর বাড়িতে পৌঁছালে তার চাচা শাহআলম ও মামলার ৮ নম্বর আসামি কাজী নাজির হোসেন টিটু বাদী কাজী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, মামলার ১ নম্বর সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবিরসহ অন্য সাক্ষীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় মামলার ১ নম্বর সাক্ষী কাজী হুমায়ুন কবির জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহরাস্তি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর জামিনপ্রাপ্ত আসামি কাজী অন্তর, কাজী ইসমাইল, মেহেদী হাসান, কাজী রবিউল ও কাজী ঐশ্বর্যসহ কয়েকজন মামলার ১ নম্বর সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবিরকে মারধরের উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাণরক্ষায় তিনি নিজ বাড়িতে প্রবেশের সময় তার পিঠে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং আসামিরা বাড়ির গেট ধাক্কাধাক্কি করে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় কাজী খোরশেদ আলম তাদের হামলায় উসকানি ও সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ছানা উল্লাহ, বেলাল, বাচ্চু মিয়া, স্বপন পাটোয়ারী, রফিক, শরীফ পাটোয়ারী, রুবেল ও মনির হোসেনসহ স্থানীয় লোকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে প্রকৃত ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপনের জন্য বক্তব্য দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের পক্ষ থেকে আইনগত নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।