বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ওয়ারিশি জমি দখল নিয়ে বিরোধ, প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪২ পিএম
শাহরাস্তিতে ওয়ারিশি জমি দখল নিয়ে বিরোধ, প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা
শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপুর গ্রামে ওয়ারিশি জমির দখল নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। নিজের ওয়ারিশি সম্পত্তি বুঝে পাওয়া এবং জমির কাগজপত্র যাচাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমির) কার্যালয়  বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের  সহযোগিতা কামনা করেছেন আলীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ীর এরশাদ উল্যা মজুমদারের ছেলে মোঃ আহছান উল্যা মজুমদার (৪৪)।
অভিযোগকারী জানান, আলীপুর গ্রামের একটি জমির দাগে মোট ৫৬ শতক জমি রয়েছে। এ ছাড়া একই ধরনের বিরোধ আরও চারটি দাগের জমি নিয়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির মূল মালিক ছিলেন তিন ভাই। তাঁদের ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তির অংশীদারত্ব থাকলেও তিনি তাঁর প্রাপ্য অংশের জমি ভোগদখলে পাননি।
মোঃ আহছান উল্যা মজুমদার বলেন, ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমিতে তাঁর প্রায় পাঁচ শতক সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে। কিন্তু তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা সেই জমি দখলে রেখেছেন। সম্প্রতি সেখানে মাটি ভরাট করা হয়েছে এবং পাকা দালান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে গ্রামের লোকজনের উপস্থিতিতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস সময় নেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে জমিতে নির্মাণকাজ করার কথা জানানো হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
তিনি আরও জানান, তাঁর দাবিকৃত অন্য পাঁচটি দাগের জমি নিয়েও একই ধরনের বিরোধ রয়েছে। এসব জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয়গুলো সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিকট আবেদন জানিয়েছেন , সরেজমিনে তদন্ত করে  তার জমির দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হোক। আইন অনুযায়ী তিনি জমির মালিকানা ও অংশ পাওয়ার অধিকারী হলে তাঁকে প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝে পেতে সহযোগিতা করতে। কাগজপত্র অনুযায়ী মালিকানা প্রমাণিত না হলে তিনি যেকোনো সিদ্ধান্ত  মেনে নেবেন বলেও জানান।
অভিযোগকারী মোঃ আহছান উল্যা মজুমদার বলেন, “আমি কাগজপত্র অনুযায়ী আমার প্রাপ্য সম্পত্তি চাই। সরেজমিনে তদন্ত করে কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
তবে এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য এবং জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত কাগজপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে নিরপেক্ষ সূত্র দাবী করছে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।