বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সেজেছে প্রতিমা, কচুয়ায় ৩৯ পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
সেজেছে প্রতিমা, কচুয়ায় ৩৯ পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

কচুয়ায় দুর্গাপ্রতিমার মাটির কাজ শেষে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর অপরূপ রূপ।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন রঙের শেষ আঁচড়ে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমাকে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে।

দুর্গোৎসবের ক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও পূজার আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি।

পূজার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। প্রচলিত পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবীর আগমন ঘোটকে এবং গমন নৌকায়।

পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। এসব মণ্ডপের মধ্যে উপজেলা পরিষদসংলগ্ন কোয়া পোদ্দার বাড়ির সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ অন্যতম প্রাচীন। এ বছর এ মণ্ডপে ১৪৬তম শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।

Model Hospital

প্রতিমাশিল্পী কালু গোস্বামী ও বাবুল কারিগর জানান, প্রতিমা নির্মাণের মূল কাজ শেষ করে এখন রঙের মাধ্যমে দেবীকে নান্দনিক রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ বেশি থাকলেও প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁদের ভাষায়, দেবীকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে পারলেই শিল্পী হিসেবে মনের মধ্যে প্রশান্তি আসে।

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ফণিভূষণ মজুমদার তাপু ও সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সাহা বলেন, উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমাশিল্পীরা শেষ মুহূর্তের রং-তুলির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে, যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করা যায়।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সর্বজনীন উৎসব নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।