শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলীতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে বসতঘর পুড়ে ছাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০২২, ৪:০০ পিএম
শাহতলীতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে বসতঘর পুড়ে ছাই
সজীব খান : চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে বড় শাহতলীতে বৈদ্যৎতিক শর্টসার্কিটের অগ্নিকান্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই হয়েছে।
শনিবার রাত ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে।
জানাযায়, বড় শাহতলী গ্রামের মৃত হাফেজ চৌধুরীর ছেলে মানিক চৌধুরী ও নান্টু চৌধুরীর পরিবার  বসত ঘরে অবস্থান করছিলেন। হঠ্যাৎ করে বৈদ্যৎতিক শর্টসার্কিট হয়ে বাল্পপুড়ে সাথে সাথেই আগুন দাউ দাউ করে লেগে যায়। ঘরে থাকা সবাই কোন রকম বের হয়ে আসলে ও ঘরের আসবাবপত্র, টাকা পয়সা, স্বর্ণালংকার সব কিছুই রয়ে যায়। ঘটনারপর মানিক চৌধুরী স্ত্রী ডাকচিৎকার দিলে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। পরে ৯৯৯ নাইনে ফোন করে চাঁদপুর দমকল বাহীনিকে খবর দিলে তারা ঘটনা স্থলে ছুটে আসে।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় চৌধুরী বাড়িতে আগুনের লেলিহান দেখে আমরা ছুটে আসি, এবং  আগুন নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করি। অবস্থা বেগতিত দেখে স্থানীয়রা  চাঁদপুর দমকল বাহীনিকে খবর দিলে দমল বাহীনি ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। ততকক্ষে ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এতে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়। এতে তাদের পরিবারের প্রায় ১০ লাখটাকার ক্ষয় -ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করা হয়েছে।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ইন্সেপেক্টর জাকির হোসেনের নের্তৃত্বে দমকলবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে আগুন একঘন্টা চেষ্টা করে আগুন পুড়ো নিয়ন্ত্রনে আনে। তাদেরকে স্থানীয়রা সার্বিক ভাবে সহযোগীতা করেন।
মানিক চৌধুরীর স্ত্রী জানান, ঘটনার সময় আমরা ঘরেই অবস্থান করছিলাম, হঠাৎ ঘরের বৈদ্যৎতিক লাইট বাস্ট হয়ে আগুন লেগে যায়। এতে আমাদের ঘরে থাকা, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, খাট, স্টেলের আলমি, ফ্রিজসহ সকল কিছুই পুড়ে আঙ্গার হয়ে যায়। আমরা কোন কিছুই সড়াতে পারিনি।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ইন্সেপেক্টর জাকির হোসেন জানান, ৯৯৯ নাইনে আমাদের কাছে ফোন আসার সাথে সাথেই ছুটে আসি, এবং আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসি। কি পরিমান ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে পরে অনুসন্ধান করে বের করবো।
ঘটনার সময়, চাঁদপুর পল্লীবিদ্যাৎ সমিতি-২, বারাক্কাবাদ গ্যাস অফিস ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।এ ঘটনার মানিক চৌধুরীর পরিবার ক্ষয় ক্ষতির সমক্ষিন হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের মাঝে চরম বিমর্যন নেমে আসে

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’