শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে উজ্জ্বল মিয়াজী খুনের ঘটনায় ২০জনের নামে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মে, ২০২২, ১২:১২ পিএম
মতলব উত্তরে উজ্জ্বল মিয়াজী খুনের ঘটনায় ২০জনের নামে মামলা

মতলব উত্তর ব্যুরো : পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মোবাইল ব্যবসায়ী উজ্জ্বল মিয়াজীকে কুপিয়ে হত্যা ঘটনায় ২০জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ১৫-২০জনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে।

৭ মে শনিবার মতলব উত্তর থানায় উজ্জ্বল মিয়াজীর বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া মিয়াজী বিবাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করে। মামলা-০৬। তারিখ- ০৭ মে ২০২২ইং। ধারা- ৩০২/১১৪/৩৪ দণ্ডবিধি। নিহত উজ্জল মিয়াজী মুন্সিগঞ্জ জেলার কালিরচর এলাকার মৃত. হাজী আবদুল খালেক মিয়াজীর ছেলে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পূর্বপাড় ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের মোবাইল ব্যাবসায়ী উজ্জ্বল মিয়াজী ঈদ পুনর্মিলনির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঘটনাস্থলে আসে । রাতে অনুষ্ঠান স্থল পরিদর্শন করতে গেলে চিহ্নিত বাবলা ওরফে উজ্জল খালাসী’সহ অজ্ঞাত ২৫/৩০ জন মিলে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনি এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুলি করে উজ্জ্বল মিয়াজিকে হত্যা করে।

হত্যা কান্ডের খরব পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে প্রাথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

Model Hospital

উজ্জ্বল মিয়াজীকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া মিয়াজী বলেন। তিনি হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি করেন।

ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই খুন হয়েছে উজ্জ্বল মিজি। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত পৌনে ১টার দিকে বাবলা ডাকাতের নেতৃত্বে উজ্জ্বল মিজিকে কুপিয়ে যখম করা হয়। পরে আমরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাই। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে উজ্জ্বল মিজি ইন্তেকাল করেন।

আগের সংবাদটি পড়ুন… মতলব উত্তরে দুই ডাকাত দলের সংঘর্ষ, গুলিতে সর্দার নিহত

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি আরও বলেন, উজ্জ্বল মিজি ২০০০ ব্যাচ নিয়ে শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করছিলেন ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রে। রাতে ওই অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে আসে। ওখানে বাবলা ডাকাতের নেতৃত্বে প্রথমে ৮-১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। তার সাথের লোকজন সব ছোটাছুটি করে দূরে সরে গেলে তাকে রামদা, দা ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ফেলে চলে যায় বাবলা ডাকাত। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে থানায় খবর দেয়।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, নিহত উজ্জল মিয়াজীর বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া মিয়াজীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ২০জনের নাম উল্লেখ পূর্বক আরো অজ্ঞাত ১৫/২০ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’