শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য প্রার্থী আকবর হোসেন মনির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ৫:৫৭ পিএম
ফরিদগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য প্রার্থী আকবর হোসেন মনির
এস এম ইকবাল : আকবর হোসেন মনির ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আপামর মানুষের কাছে একটি প্রিয় মুখ। মনির তরুণ যুবকদের আইডল। নেতৃত্বের গুনে সে তরুণ, যুবক ও প্রবীণদের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন ইতোমধ্যে। ছাত্র জীবন থেকে তিনি ছিলেন কর্মী বান্ধব। সাধারণ কর্মীদের বিপদে এগিয়ে আসা তাকে জনপ্রিয় করে তুলছে।

আকবর হোসেন মনির স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে তার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং গণতন্ত্রের রূপকার উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের মানসকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার ক্ষুধা দারিদ্র, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদমুক্ত ডিজিটাল ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিজ্ঞাবন্ধ।
মনির এ পর্যন্ত যতগুলো দায়িত্ব পালন করেছেন অত্যান্ত দক্ষতার সাথে তা করেছেন। আকবর হোসেন মনির ১৩নং ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজের সহ-সভাপতি, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ সাধারণ সম্পাদক, ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক, ফরিদগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন যোগ্যতার সহিত। ২০০১ সাল পরবর্তীতে ছাত্র রাজনীতির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিএনপি জামায়াত জোটের অত্যাচার জুলুমের মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হয়েছে।
রাজনীতির বাহিরে জনকল্যান মূলক কাজ করে মনির সাধারণ মানুষের হৃদয়ও স্পর্শ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে একজন নিবদিত মানুষ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি কমিউনিটি পুলিশিং ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ফরিদগঞ্জ ওয়েল ফেয়ার এসোশিয়েশনের সভাপতি, বটতলী স্পটিং ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
পারিবারিকভাবে আকবর হোসেন মনির আওয়ামীলীগের যোগ্য উত্তরসূরী। তার নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ছমিদ কাজী। যিনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক হিসাবে সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন।
 আকবর হোসেন মনিরের বাবা আবদুল মান্নান বেপারী ১৯৮৭ থেকে ৮৮ সালের দিকে ১৩নং ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ফরিদগঞ্জ পৌর সভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে থেকে তাদের খাবার প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহসহ যাবতীয় বিষয়ে সহযোগিতা করেন। আকবর হোসেন মনিরের সহধর্মিনী আসমা আক্তার বর্তমানে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
দলের প্রয়োজনে মনির অধিকাংশ সময় রাজপথে কাটিয়েছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, তৎকালিন বিরোধীদল নেত্রী দেশ রত্ন শেখ হাসিনার উপর বোমা হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতিসহ বিএনপি জামায়াতের হামলায় আহত হয়। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির করা দু’টি হত্যা মামলার ১৯৭ জন আসামীর মধ্যে মনির ৮ নাম্বার আসামী। ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সায়েদ সরকারের নির্বাচন পরিচালনা ও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে গিয়ে সোনবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতারের স্বীকার হয়। এছাড়াও আরো ৩টি রাজনৈতিক মামলায় আকবর হোসেন মনিরকে কারাবরন করতে হয়েছে।
খুব সহসায়ই ফরিদগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামীলীগের সম্মেলন। এই সম্মেলনে আকবর হোসেন মনির একজন শক্তিশালী প্রার্থী। তার ছোট্ট কিন্তু বনাঢ্য এই রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ফরিদগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদের একজন যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করছেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। তার নেতৃত্বগুণ এবং অতিত কর্মকান্ড বলে দেয় আকবর হোসেন মনির পৌর আওয়ামীলীগের দায়িত্ব পেলে সুশৃঙ্খলভাবেই দল পরিচালনা করবেন। সাধারণ নেতা কর্মীরা মনে করেন, আগামী দিনে রাজপথে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সব ধরনের যোগ্যতা তার রয়েছে। সে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলে ত্যাগীর মূল্যায়িত হবেন এমনটা প্রত্যাশা তৃণমূল আওয়ামীলীগ কর্মী সমর্থকদের।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’