শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশন পরিহার করতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৪:৫০ পিএম
পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশন পরিহার করতে হবে

এস এম ইকবাল: ফরিদগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে চাঁদপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান লিটনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তারা বলেন, ‘দেশ ও মানুুষের কল্যাণে কলম চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ কথাটি ভুুলে গেলে চলবে না। সাংবাদিকরা সবসময় সত্য ঘটনা প্রকাশ করবে এটা সবার প্রত্যাশা। কোনো কোনো সাংবাদিক নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশন করেন। এমন তথ্য প্রচারের কারনে সাংবাদিকদের অনেকে ভালো চোখে দেখেন না, তাই ওই সব সাংবাদিকদের কর্মকান্ড সম্পর্কে সাংবাদিক নেতারা সচেতন থাকতে হবে।

এ সময় ফরিদগঞ্জে সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশনের তথ্য জেলা সাংবাদিক নেতারা তুলে ধরে সংবাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত সভাপতি এএইচএম আহছান উল্যাহ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসলিমুন নেছা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান শোভন, সিনিয়ির সহ-সভাপতি আবদুর রহিম বেপারী (রহিম বাদ্শা), সহ-সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শান্ত, সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ ফেরদাউস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এমকে মানিক পাঠান, সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, নুরুন্নবী নোমান, সহ-সভাপতি মো.মহিউদ্দিন, আমান উল্যাহ আমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, সিনিয়র সাংবাদিক আবুহেনা মোস্তফা কামাল, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ফরহাদ, কোষাধ্যক্ষ জাকির হোসেন সৈকত, প্রচার সম্পাদক আনিছুর রহমান সুজন।

Model Hospital

এসময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তসলিম আহমেদ, ফরিদগঞ্জ রোটারীক্লাবের সভাপতি মো. কামরুল হাসান সউদসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন কে.এম নজরুল ইসলাম। প্রয়াত সাংবাদিকদের আত্মার মাগফেরাত কামনা শেষে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেয় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’