শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতির পিতার জন্মবার্ষিকীতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০২৩, ২:০৩ পিএম
জাতির পিতার জন্মবার্ষিকীতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালী
এস. এম ইকবাল: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালী কেককাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৭ মার্চ শুক্রবার বিকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয় থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নোতকর্মীদের উপস্থিতিতে বিশাল বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীটি উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার এক সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ হারুনুর রশীদ সাগর, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি আবুল হোসেন বাবুল পাটওয়ারী, ছিদ্দিকুর রহমান পাটওয়ারী, লোকমান তালুকদার, অ্যাড.মোহাম্মদ আলী মজুমদার, যুগ্ম-সম্পাদক আলমগীর হোসেন স্বপন, ওয়াহিদুর রহমান রানা, আরিফুর রহমান আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মাহফুজুল হক, বিআরডিবির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল, মহিলা আ’লীগের সভাপতি অ্যাড. নাজমুন নাহার অনি, যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ভূঁইয়া ইরান, শ্রমিক লীগের হানিফ কাজী, কৃষকলীগের জহির হোসেন মিজি, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম সোহাগ, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক রাজীব মজুমদার, রবিউল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে নেতৃবৃন্দ কেক কেটে জন্মবাষির্কী উৎসব পালিত হয়।

এর আগে উপজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা রং বেরং’র গেঞ্জি, ক্যাপ, প্লা-কার্ড সম্বলিত খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে সমবেত হতে থাকে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’