শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সাথে প্রতারণা করে জমি রেজিস্ট্রি

মতলব উত্তর ব্যুরো প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ মে, ২০২৩, ৯:০০ পিএম
মতলব উত্তরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সাথে প্রতারণা করে জমি রেজিস্ট্রি

মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের জহিরাবাদ গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের সাথে প্রতারনা করে সাড়ে ৬৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারনার স্বীকার হয়ে আকস্মিক মৃত্যু হয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের।

এ বিষয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের মেয়ে শারমিন আক্তার ও ভাগিনা মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মতলব উত্তর থানার পৃথক দু’টি অভিযোগ করেন প্রতারক শহিদুল্লাহ’সহ আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, জহিরাবাদ গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. শহীদুল্লাহ ব্যাংকের ভুয়া জমা স্লীপ দিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের পৈত্রিক জমি মতলব উত্তর মধ্যে সাবেক ১৩৪ হাল ১৫১ নং মৌজা জহিরাবাদ মধ্যে সাবেক ৮১, ২৯, ২৪৮, ২২০, ১১৩, ২৭৩ নং চুড়ান্ত বিএস ৩৩নং খতিয়ানে রায়তি স্বত্বঃ বিএস ৩৪ নং দাগে নাল ৪২শতাংশ, বিএস ৩৪নং দাগে ভিটা মো. ১৯ শতাংশের মধ্যে সাড়ে ৯ শতাংশ ও বিএস ৭৪নং দাগে বাড়ী মো. ২১ শতাংশের মধ্যে ১৪ শতাংশ মোট সাড়ে ৬৫ শতাংশ জমি ৫ জানুয়ারী ২০২৩ সালে ১৪৬নং দলিল মূলে রেজিস্ট্রি করে নেন। যার মূল্য লেখা হয় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের মেয়ে শারমিন আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমার বাবাকে বিভিন্ন ভাবে প্ররোচীত করে মোহনপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে তার নামীয় ৬৫.৫০ শতক সম্পত্তি মূল্য ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ পূর্বক রেজিষ্ট্রি করিয়া নেয় এবং আমাদের জায়গা সম্পত্তি সংক্রন্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল পত্র জব্দ করে নেয়। পরবর্তীতে শহীদুল্লাহ আমার বাবার নামে নতুন বাজার ইসলামী ব্যাংক শাখায় তাহার নামে একাউন্ট খুলে ওই একাউন্টে তার জমি বিক্রির সকল টাকা সঞ্চয় রেখেছে বলে ভুুয়া ব্যাংক রিসিট হাতে ধরিয়ে শহীদুল্লাহ নিরুদ্দেশ হয়ে যান। আমার বাবা বাড়ীতে এসে বিষয়টি আমাদের ফুফাতো ভাইকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারী ২০২৩ইং তারিখে ওই রিসিট নিয়ে ব্যাংক শাখায় যান এবং বিবাদীদের প্রতারনার বিষয় বুঝতে পেরে আমার পিতা সাথে সাথেই সেখানে স্ট্রোক মারা যান।

Model Hospital

মো. শহীদুল্লার এ ধরনের প্রতারনার বিষয়ে আমিসহ আমার সকল আত্মীয় স্বজন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে অবহিত করাই। গত ১৩ জানুয়ারী ২০২৩ইং তারিখ জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম গাজীর কার্যালয়ে তাহার নেতৃত্বে শালিসে বসে। উক্ত শালিসে উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের শহীদুল্লাহর কর্মকান্ডের বিষয়ে স্বীকার করে, আমার পিতার নামীয় সকল সম্পত্তি ও দলিল পত্র ফেরত দিবে বলে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে আমাদেরকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দেয়।

জহিরাবাদ এলাকার প্রবীন আবু বকর সরকার, আলী আজগর সরদার, খোকন মেম্বার, আবদুর রশিদ, মোস্তফা সরকার জানান, গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদ অন্ধ ছিলেন। তার সাথে প্রতারনা করে ভুয়া ব্যাংকে টাকা জমার স্লীপ দিয়ে দলির করে নেন। এটা এলাকায় প্রমাণিত। মো. শহীদুল্লাহ ঘটনার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত মো. শহীদুল্লাহ বলেন, আমি টাকা দিয়ে সঠিক ভাবেই জমি রেজিস্ট্রে করেছি। কোন ধরণের প্রতারণা করিনি।

১৫১ ধারায় আরও ১ জন

হাজীগঞ্জে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ পিএম
হাজীগঞ্জে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫

হাজীগঞ্জে পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের বিভিন্ন টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মান্নান ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব শর্মার নির্দেশনায় এসআই নুরে আলম, এসআই মো. নাজমুল আলম ও এসআই মো. জহির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ এসব অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন—হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের ফুলছোয়া এলাকার মো. হাসেম (৩৮), মকিমাবাদ এলাকার মো. হারুন (২৮), চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের লোদেরগাঁও এলাকার শাহ আলম (৫২), হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মকিমাবাদ এলাকার সোহাগ আহমেদ (৪২) এবং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাউরা এলাকার পলাশ (২৩)। এছাড়া নাটেহরা এলাকার শাওন (২২) নামে আরও একজনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।

Model Hospital

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার প্রথম পাঁচজনের কাছ থেকে ১৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় বাদীর এজাহারের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ১০(ক)/১৯(ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার শাওনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ছয়জনকেই শনিবার (৩ অক্টোবর) যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।