মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

এমন সম্পর্ক গড়ুন, বড় হয়েও যেন শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের মনে রাখে : জেলা প্রশাসক

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
এমন সম্পর্ক গড়ুন, বড় হয়েও যেন শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের মনে রাখে : জেলা প্রশাসক

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে চাঁদপুর সদরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন জামিউল হিকমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষকরা সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং মানুষ গড়ার কারিগর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোমলমতি হওয়ায় তাদের সঙ্গে শিক্ষকদের আন্তরিক ও স্নেহপূর্ণ আচরণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তানের মতো ভালোবাসলে তাদের মধ্যে শিক্ষার পাশাপাশি সুন্দর চিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গড়ে উঠবে।

Model Hospital

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ছোটবেলায় প্রিয় শিক্ষিকা স্কুলে এলে শিক্ষার্থীরা ভালোবাসায় তাকে জড়িয়ে ধরত। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের এমন ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, যাতে তারা বড় হয়েও প্রিয় শিক্ষকদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। বাড়ি কিংবা বিদ্যালয়ে গাছ লাগিয়ে নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, একটি গাছ যেমন এক বছর পর বড় হয়ে ওঠে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হবে।
জেলা প্রশাসক জানান, চাঁদপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে একটি বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক ক্লাব, স্টাডি ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব ও গ্রন্থাগার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাংস্কৃতিক ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাবে। স্টাডি ক্লাবের মাধ্যমে প্রকৃতি, প্রাণী ও কীটপতঙ্গ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হবে। বিজ্ঞান ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা ও বিভিন্ন ছোট প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে গ্রন্থাগার স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

প্রতিটি বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা শিক্ষার্থীদের পাঠকে আরও আনন্দদায়ক ও কার্যকর করে তুলবে। পুকুরসংলগ্ন বিদ্যালয়গুলোতে ‘প্রকৃতি পাঠশালা’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইতোমধ্যে দুটি বিদ্যালয়ে এর সফল বাস্তবায়ন হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নিয়েও প্রধান শিক্ষকদের আন্তরিক ও সচেতনভাবে কাজ করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। খাবারের মান নিশ্চিত করা এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশনা দেন তিনি। এ কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।

বিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু রোগ প্রতিরোধ করে না, শিক্ষার্থীদের মধ্যেও শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও প্রস্তাব শোনেন জেলা প্রশাসক। তিনি পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ চৌধুরী। প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. আবুল হাশেম ও ফাতেমা বেগম। ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে বক্তব্য দেন বিষ্ণুদী আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা।

পরে সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে বিদ্যালয়ের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এসব ক্রীড়া সামগ্রীর মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া চলতি বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বই, খাতা, কলমসহ এক বছরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, বিদ্যালয়ের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান এবং শিক্ষা ও পরিবেশভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের ঘোষণায় অনুষ্ঠানটি সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। উপস্থিত প্রধান শিক্ষকরা এ আয়োজনকে পারস্পরিক মতবিনিময় ও শিক্ষার মানোন্নয়নে উৎসাহব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।