শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কোভিড-১৯ সম্মাননা পেলেন রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:০৫ পিএম
কোভিড-১৯ সম্মাননা পেলেন রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী
মাসুদ হোসেন : মহামারি করোনা ভাইরাসের সময়কালীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো, করোনায় আক্রান্ত পাশে ও মৃত ব্যক্তিদের দাফন কাজে সহযোগিতাসহ অন্যান্য মানবিক কাজে বিশেষ অবদান রাখায় দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে করোনায় ভূমিকা রাখা মনোনীতদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোভিড-১৯ সম্মাননা পেলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের পুনঃনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী।
শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার ১৫ বছর পূর্তি ও ১৬ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারীকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ সম্মাননা তুলে দেন।
দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী’র সভাপতিত্বে ও পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মাসুদ হোসেনের সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী, ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের পুনঃনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী, ২নং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের পুনঃনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হাজী, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক শওকত করিম, মফস্বল সম্পাদক এম এম কামাল, বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোঃ তাজুল ইসলাম হাওলাদার, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের পুনঃনির্বাচিত সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন মহিলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পিরোজা বেগম, ৯নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য কবির হোসেন রনি।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার চিফ রিপোর্টার সাঈদ হোসেন অপু।
এসময় শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী, ২নং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের পুনঃনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, ৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হাজী, বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোঃ তাজুল ইসলাম হাওলাদারকে সংবর্ধনা জানান দৈনিক চাঁদপুর খবর পরিবার।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর চাঁদপুরের শীর্ষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল কর্তৃক “প্রিয় চাঁদপুর” কোভিড-১৯ সম্মাননা পেলেন চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী। জেলায় প্রথম করোনা ভাইরাসে মৃত ব্যক্তিকে দাফনকালে কয়েকজন স্বাস্থকর্মী, ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী ও মৃত ব্যক্তির শশুড় পরিবারের কয়েকজন সদস্য ছাড়া রাত আড়াইটায় দাফন কাজ সমাপ্ত করেন। এছাড়াও এ ইউনিয়নে আরো ২ জন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করলে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে তাদের দাফন কাজ সম্পন্ন করেন এবং করোনায় আক্রান্তদের বাড়ী লকডাউন থেকে শুরু করে খাবার বিতরন ও অন্যান্য সামাজিক কাজে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আর কাজে উৎসাহ দিয়েছিল চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের নেত্রী শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. দীপু মনি এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু ও সার্বিক সহযোগিতা করেছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ও চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদা বেগম পলিন। চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সেই সাথে তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা প্রদান করায় বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন “দৈনিক চাঁদপুর খবর” পরিবারের কাছে। তিনি বলেন, এ সম্মাননা আমার একা নয়। এ সম্মাননা হচ্ছে রামপুর ইউনিয়নবাসীর। তাদেরকে সাথে নিয়েই আমার এ পথচলা। আগামী ২৩ ডিসেম্বর আমার শপথের পর আমি যেন সামনের পাঁচ বছর রামপুর ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকতে পারি সেজন্য সকলের দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’