শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বহিরাগতরা আপনাকে জয়ী করে দিবে, তাহলে ভূল করবেন : অ্যাডি. এসপি সোহেল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:৪৬ পিএম
বহিরাগতরা আপনাকে জয়ী করে দিবে, তাহলে ভূল করবেন : অ্যাডি. এসপি সোহেল

এস এম ইকবাল : ৫ম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে সমাপ্ত করতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার দুইটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেলে ৫নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের গল্লাক বাজারে এবং একইদিনে বিকেলে ৬নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের খাজুরিয়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যাল মাঠে বিট পুলিশিংয়ের সভাপতি আবুল কাশেম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ- ফরিদগঞ্জ) সার্কেল সোহেল মাহমুদ পিপিএম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদ হোসেন, তদন্ত (ওসি) মোঃ বাহার মিয়া, বিট অফিসার এস.আই নূরুল ইসলাম।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোহেল মাহমুদ প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারী ভোটারদের স্বতষ্ফূর্ত অংশ গ্রহনের মধ্যদিয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, আপনারা প্রার্থীরা যদি মনে করেন, আপনাদের বহিরাগতরা আপনাকে জয়ী করে দিবে, তাহলে ভূল করবেন। কারন আপনার শক্তি এলাকার জনগন। তাই বহিরাগতদের পিছে না ঘুরে, ভালো ফলাফলের জন্য ভোটারদের ধারস্থ হন। শান্তি পূর্ন ভাবে নির্বাচন সমাপ্ত করতে আমাদের যতটুকু শক্তি প্রয়োজন আমরা তা প্রয়োগ করবো। আপনারা প্রার্থীরা দায়িত্বশীল লোক দায়িত্বশীল আচরন করুন। ৫ তারিখ নির্বাচনের পর আপনাদের থেকেই চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার নির্বাচিত হবেন এবং আপনারাই প্রশাসনের অংশ হবেন। সুতরাং আইন শৃঙ্খলা বিঘ্ন হবে এমন কোন কাজ করবেন না। সকলের জন্য সমান ভাবে আমাদের দরজা খোলা আছে।

নির্বাচনে বিঘ্নতা ঘটানোর চেষ্টা করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬ মাসের জেল ছাড়াও জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। পরিশেষে আমি একটা কথা বলবো আপনারা এ ইউনিয়নের এবং এ মাটির সন্তান, নির্বাচনের আপনারা সকলে মিলে এই ইউনিয়নের বসবাস করবেন। তাই সকলে সৌহার্দ্যপূর্ন আচরনের মধ্যদিয়ে অবাধ এবং নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন সমাপ্ত করতে সহযোগীতা করুন।

এসময় তিন ইউনিয়নের নির্বাচনে অংশ গ্রহনকারী চেয়াম্যান, সাধারন ও সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’