শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে শাহ আলম ভূইয়া আনন্দ মিছিল ও মোটর শোভাযাত্রা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: বুধবার, ৭ আগস্ট, ২০২৪, ১০:৫৮ পিএম
মতলব উত্তরে শাহ আলম ভূইয়া আনন্দ মিছিল ও মোটর শোভাযাত্রা

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ায় চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদার নির্দেশে মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও পৌরসভার ছেংগারচর বাজারে আনন্দ মিছিল করেছেন মতলব উত্তর উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মো. শাহ আলম ভূইয়া।

বুধবার বেলা ১০ টায় চাঁদপুর ২ আসনের সাবেক ৪বারের সংসদ সদস্য ও তথ্য সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল হুদার কবর জিয়ারত করেন, পরে আনন্দ মিছিল বের হয়ে বাগানবাড়ি বাজার থেকে শুরু মতলব উত্তরের বিভিন্ন বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী।

পরে মতলব উত্তর থানার সামনে এক পথসভায় বক্তৃতা দেন সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব শাহ আলম ভূইয়া। এসময় তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন দিন পেল। আমি আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে ছাত্রদের ধন্যবাদ জানাই। আর যারা এই যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

শাহ আলম ভূইয়া আরো বলেন, বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল শান্তি প্রিয় দল। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান শান্তি প্রিয় মানুষ। তারা দেশের জনগণের কল্যাণে শহীদ জিয়াউর রহমানের মত নিজেদের বিলিয়ে দিচ্ছেন। তাই আমি তানভীর হুদার একজন কর্মী হিসেবে বলতে চাই কেউ কোন অস্থিতিশীল আচরণ করবেন না।

Model Hospital

দরিদ্র মা-শিশুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, জুলকারনাইনের পোস্টে ঝড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২১ এম
দরিদ্র মা-শিশুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, জুলকারনাইনের পোস্টে ঝড়

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে দুই শতাধিক মুখোশধারী ব্যক্তি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা স্থাপনা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

২৫ সেপ্টেম্বর রাতের এ ঘটনায় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা ও অন্যান্য সামগ্রী লুটের অভিযোগও করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ১৯৭০-এর দশক থেকে মিরপুর এলাকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং টিকাদানসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে এসব সেবা পরিচালিত হয়ে আসছিল।

ঘটনার সঙ্গে জমি দখলের বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগ এসেছে। ঘটনাস্থলে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছে। তবে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

Model Hospital

ঘটনার সঙ্গে বিএনপি নেতা ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেছেন, ভাঙচুরের সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং পুলিশ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিক।

এদিকে ঘটনার পর শাহ আলী থানা পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, জমি বা স্থাপনা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি। তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ধ্বংসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধের দায় থেকে কাউকে সুরক্ষা না দেয়—এমন দাবি উঠে এসেছে।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে দরিদ্র মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত একটি প্রতিষ্ঠান এভাবে ধ্বংসের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ধ্বংসের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে জমি দখলের কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।