বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কচুয়ার ৩ শিক্ষার্থী শহীদ হলেন

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৪, ৮:২৭ পিএম
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কচুয়ার ৩ শিক্ষার্থী শহীদ হলেন

সাবেক সরকার হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কচুয়ার ৩ মেধাবী শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

জানাগেছে, ৫ আগস্ট মঙ্গলবার সড়ক অবরোধ কর্মসূচীতে অংশগ্রহন শেষে বাংলাদেশের পতকা হাতে নিয়ে বিজয়ী মিছিলে ঢাকা টঙ্গীর বিএনএস’র সেন্টার ব্রিজের উপর সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র সামিউ আমান নুর (১৩) মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে সঙ্গাহীন অবস্থায় টঙ্গী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষনা করেন।

সে কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের জামায়াত নেতা আমান উল্লাহ’র ছেলে। তার লাশ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শিক্ষার্থী সামিউ আমান নুর টঙ্গী এলাকার সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যা নিকতনের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র।

একই দিনে কচুয়া উপজেলার উজানী মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মাও. আব্দুর রহমানের ছেলে খোবায়িদ হোসেন (২০) যাত্রাবাড়ি মিছিলে অংশগ্রহন করলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সাইনবোর্ড এলাকায় খোবায়িদ হোসেন যে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন সেখানে লাশ দাফন করা হয়।

Model Hospital

১৮ জুলাই শুক্রবার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে কচুয়ার হাসান পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

হাসান বাড্ডা এলাকায় একটি লাইব্রেরীতে চাকুরী করতো। কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়।

২০ জুলাই রবিবার কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি সিকদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। ওই গ্রামের কবির হোসেনের একমাত্র ছেলে হাসান।

শাহরাস্তিতে কৃষকদের মাঝে ৬৭টি কৃষি যন্ত্র বিতরণ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম
শাহরাস্তিতে কৃষকদের মাঝে ৬৭টি কৃষি যন্ত্র বিতরণ
কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় কৃষক গ্রুপের মাঝে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মো: সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কৃষক গ্রুপের হাতে মোট ৬৭টি যন্ত্র তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি বেড প্ল্যান্টার, ৯টি পাওয়ার থ্রেসার, ৮টি রিপার, ৪টি ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, ৯টি এলএলপি ও ফিতা পাইপ, ৯টি ফুট পাম্প এবং ২৪টি হ্যান্ড স্প্রেয়ার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনিরা খাতুন বলেন, “কৃষি আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। কৃষকের শ্রম ও ঘামের ওপর ভর করেই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা টিকে আছে। সেই কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “এসব যন্ত্র ব্যবহারে বীজ বপন, ফসল কাটা, মাড়াই, সেচ ও বালাইনাশক স্প্রের কাজ দ্রুত ও কম খরচে করা সম্ভব হবে। এতে সময় ও শ্রম বাঁচবে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন বাড়বে।”
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এই যন্ত্রপাতি সরকারের সম্পদ, যা আপনাদের সবার কল্যাণে দেওয়া হয়েছে। এগুলো যত্নের সঙ্গে ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। গ্রুপের প্রত্যেক সদস্য যেন পালাক্রমে যন্ত্রের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ শাহরাস্তির কৃষিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো: সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি কৃষক গ্রুপের মাঝে দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সবসময় কৃষকের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাবে।” তিনি যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে ফলন বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
যন্ত্রপাতি পেয়ে উপকারভোগী কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং যথাযথভাবে ব্যবহারের অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো: আবু কালাম ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো: রেজাউল হাসান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ইউনুস পাটোয়ারী, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার শ্রীবাস চন্দ্র দাস, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: মকবুল হোসেন ও মোহাম্মদ আল আমিন।
উপজেলার অন্যান্য উপ-সহকারী কৃষি অফিসার, কৃষক-কৃষাণী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।