বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে আত্ম”গো’পনে মেয়রসহ ১৬ জনপ্রতিনিধি !

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৪, ৯:৫১ পিএম
চাঁদপুরে আত্ম”গো’পনে মেয়রসহ ১৬ জনপ্রতিনিধি !

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশছাড়ার পর চাঁদপুর জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সদর উপজেলার ১৬ জনপ্রতিনিধি আত্মগোপনে রয়েছেন। অফিসে গিয়ে তাদের খোঁজ মিলছে না। এতে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরিকরা।

বুধবার (১৪ আগস্ট) কথা হয় চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অফিসে আসছি। চেয়ারম্যান কবে আসবেন তা বলতে পারবো না। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও নিয়মিত অফিস করছেন।’

এদিকে গত দুদিন ধরে সদর উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সদরের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যানদের কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে থাকলেও স্বীকার করছেননা অনেকে।

গত ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে আছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটওয়ারী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির সুমন ও পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান।

Model Hospital

ইউনিয়নের মধ্যে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নাছির উদ্দিন খান, আশিকাটির বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, কল্যাণপুরের সাখাওয়াত হোসেন রনি, শাহমাহমুদপুরের মাসুদুর রহমান নান্টু, রামপুরের আল-মামুন পাটওয়ারী, মৈশাদির নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী, তরপুরচন্ডীর ইমাম হাসান রাসেল, বাগাদীর বেলায়েত হোসেন, বালিয়ার রফিকুল্যা পাটওয়ারী, লক্ষ্মীপুর মডেলের সেলিম খান (গণপিটুনিতে নিহত), ইব্রাহিমপুরের হাজী আবুল কাশেম খান, চান্দ্রার খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারী, হানারচরের ছাত্তার রাঢ়ী এবং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হজরত আলী ব্যাপারী আত্মগোপনে আছেন।

বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘৫ আগস্টের পর চেয়ারম্যান পরিষদে আসেননি। আমরা সেবামূলক কাজ প্রস্তুত করে রেখেছি। কিন্তু উনার সই ছাড়া সেগুলো দিতে পারছি না।’

আশিকাটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু বকর মানিক বলেন, ‘শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর আমাদের পরিষদে ভাঙচুর হয়েছে। এরপর থেকে চেয়ারম্যান আত্মগোপনে আছেন। পরিষদে আসেন না।’

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাখাওয়া জামিল সৈকত বলেন, ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সেবাপ্রত্যাশীরা যাতে কোনো দুর্ভোগে না পড়েন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব জনপ্রতিনিধি উপস্থিত নেই, তাদের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান ৫ আগস্টের আগ থেকেই আত্মগোপনে। তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। মেয়রের ব্যক্তিগত নম্বরও বন্ধ পাওয়াগেছে। তবে পৌরসভার জারুরি সেবামূলক কার্যক্রম চলমান আছে।

সূত্র : জাগো নিউজ

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
চাঁদপুর জেলা কারাগারে বাড়ছে সেবার মান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি

চাঁদপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ও জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা। বন্দিদের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চাঁদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদক ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। তবে সেখানে বর্তমান বন্দির সংখ্যা ১২০৬ জন।

ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকলেও তাদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৫ মে জেল সুপার হিসেবে মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অনুসরণ করে কারাগারের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Model Hospital

কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা হয়েছে। কারা বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজি কারারক্ষী ও বন্দিদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে বন্দিদের জন্য কর্মমুখী পরিবেশও তৈরি হচ্ছে।

কারাগারে চিকিৎসাসেবার জন্য একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি খাবারে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সুযোগ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি জানান, কারাগারের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো। তাদের দাবি, বন্দিদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা সমভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বন্দি বা গোষ্ঠী যাতে প্রভাব বিস্তার করে অন্যদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে।

কারাগারে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন জেল সুপার।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কারাগারের সেবার মান বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে আমরা সতর্ক রয়েছি। চাঁদপুর জেলা কারাগার মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেল সুপার আরও বলেন, বন্দিগন যাতে কারাগার হতে মুক্তি গিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না হয় সেজন্য তাদের আত্মকর্মসংস্থান মূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

কারাবন্দিদের সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারাগারে বন্দিদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে কারামুক্তির পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্দিদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।