শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নারী ইউপি সদস্য হাসিনা বেগম

ফরিদগঞ্জের বালিথুবায় কাঁঠেরপুল ভাঙার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪, ২:৩১ পিএম
ফরিদগঞ্জের বালিথুবায় কাঁঠেরপুল ভাঙার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন
গত ২৮ নভেম্বর চাঁদপুরের কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ও নিউজ পোর্টালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নে সংরক্ষিত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে জনগণের যাতায়াতের কাঁঠেরপুল ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য হাসিনা বেগম।
মিডিয়ায় দেওয়া এক বক্তব্যে ইউপি সদস্য হাসিনা বেগম বলেন, বালিথুবা বাজারের পূর্ব মাথায় ওয়াপদা খালের পাশে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। সেখানে আমার চাচা মোজাম্মেল হোসেন দোকান ঘর নির্মান করে ভোগ দখল করে আসছে। চাচা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকে। সে সুবাদে আমি মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর নেই। দোকান ঘরের পাশের খালি জায়গা থাকায় ওয়াপদা খালের উপর স্থানীয় হাছান ভূঁইয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অতিদ্রুত সময়ে বাজারে আসার জন্য একটি কাঁঠেরপুল নির্মান করে এবং তারা ওই কাঁঠেরপুল ব্যবহার করে পায়ে হেঁটে বাজারে আসা যাওয়া করে।
আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করে আসছি। গত ২৮ নভেম্বর কাঁঠেরপুলটি ভেঙে যাওয়ার খবরটি আমি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনতে পাই। কিন্তু তারা এ দায় আমার উপর ছাপিয়ে দিতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। এই কাঁঠেরপুলের প্রায় ১’শ ফুট দক্ষিণ পাশে সরকারি পাকা রাস্তা রয়েছে এবং উত্তর পাশে প্রায় ৪-৫’শ ফুটের মাথায় ওয়াপদা খালের উপর একটি পাকা ব্রিজ রয়েছে। যা দিয়ে তারা বিভিন্ন পরিবহন নিয়ে বাড়িতে যাতায়াত করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে প্রথম বার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হই। ৫ বছর মানুষের আস্থা অর্জন করে ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনরায় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি সুনামের সহিত জনগণের দেওয়া দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছি। ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে কতেক নিন্দুক ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার সুনাম সুখ্যাতি নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমি ঘটনার তীব্র ও প্রতিবাদ জানাই এবং ষড়যন্ত্র কারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’