শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী শাহজাহান

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে জামায়াতে ইসলামী দলের বিকল্প নেই

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৮:৫০ পিএম
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে জামায়াতে ইসলামী দলের বিকল্প নেই

কচুয়ায় জামায়াতে ইসলামী কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র -জনতার মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।

১৬ বছর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া শাসনামল ছিল। তারা এেেদশের মানুষের নিরাপত্তা কখনো দিতে পারেনি।

এদেশের মানুষের স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষকে হত্যা ও নির্যাতন করার জন্য সকল পরিকল্পনা করতো স্বৈরাচার শেখ হাসিনা । সেই গণভবন থেকে খুনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে হয়েছে। এই বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বাংলার জনগন মেনে নিবে না। ইতিমধ্যে দেশের জনগন সেটির প্রমান দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছে এদেশের মানুষ নিরাপদ, কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। তাই দেশের মানুষকে নিরাপদ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে জামায়াতে ইসলামীর বিকল্প নেই।

তিনি শনিবার বিকালে চাঁদপুরের কচুয়া হযরত শাহ নেয়ামত শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

Model Hospital
ছবি : কচুয়ায় জামায়াতে ইসলামী কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।

তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিককে গলাটিপে ধরেছেন। তার মেয়ে শেখ হাসিনার অল্প দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা, বাকশালী শাসন তৈরি ও ইসলামের উপর অমানবিক নির্যাতন করেছেন। তার এই অত্যাচারী শাসনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষ কখনো ক্ষমা করবেন না।

কচুয়া উপজেলা আমীর এডভোকেট আবু তাহের মেসবাহের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর পরিচালনা বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী,সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম পাটোয়ারী,নায়েবে আমীর এডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল,সেক্রেটারী এডভোকেট শাহজাহান মিয়া,কচুয়া আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী প্রমুখ।

এসময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’