শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু থেকেই বন্ধ রয়েছে পৌরসভার অনলাইন সেবা

নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত নারায়ণপুর পৌরবাসী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫, ৪:৫২ পিএম
নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত নারায়ণপুর পৌরবাসী

আইনী জটিলতা শেষে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নবগঠিত নারায়ণপুর পৌরসভার কার্যক্রম পৌর প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী। কাগজে-কলমে পৌর নাগরিক হলেও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি এখনো।

গত দেড় বছর আগে পৌরসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও ওয়ার্ডভিত্তিক জিও কোড না থাকায় এখনো বন্ধ রয়েছে জন্ম সনদসহ সকল অনলাইন সেবা। তবে জন্ম সনদ ছাড়া অন্যান্য সেবা চলছে অফলাইনে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামেই মাত্র পৌরসভা। যেখানে জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদপত্র পেতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দিনের পর দিন। সেবার পরিবর্তে বেড়েছে চরম দুর্ভোগ।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের সফটওয়্যারে ‘নারায়ণপুর পৌরসভা’ শব্দটি এবং পৌর কোড যুক্ত না হওয়ায় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত পৌরসভার অর্ধ লক্ষাধিক নাগরিক। পৌরসভার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেবা নিতে আসা পৌর নাগরিকরা অনলাইন জটিলতার কারণে জাতীয় সনদপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদপত্রসহ বিদ্যালয়গামী ছেলে-মেয়েদের জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে পারছেন না। বিদেশগামীরা পাসপোর্টের কাজ করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে।

Model Hospital

সরেজমিনে জানা যায়, ভাঙা রাস্তাঘাট, সুপেয় পানির অভাব, ভঙগুর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নেই পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও লাইটিং এর ব্যবস্থা, সামান্য বৃষ্টিতে পৌরসভার বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে নারায়ণপুর পৌরসভার ৫০ হাজারেরও অধিক পৌর নাগরিক।

পৌরসভার অস্থায়ী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নারায়ণপুর পৌরসভায় রূপান্তরিত হওয়ায় সীমানা নির্ধারণ এবং ওয়ার্ড বিভাজন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ওয়ার্ড বিভাজন গেজেট না হওয়ায় পৌরসভা হিসেবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়ার্ডের নাগরিকদের কাঙ্খিত অনলাইন সেবা দিতে পারছেন না পৌর কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধন সেবা, পাসপোর্টের সাথে কারো জন্ম নিবন্ধনে নামের অমিল থাকলে তার সংশোধন সংক্রান্ত সেবাসহ সকল প্রকার অনলাইন সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং বিদেশগামী রেমিটেন্স যোদ্ধারা।

এ বিষয়ে নারায়ণপুর পৌরসভার বর্তমান পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জাবেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ওয়ার্ড বিভক্তির গেজেট না থাকায় পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে দুই ডিজিটের জিও কোড পাওয়া যায়নি। আমরা ইতোমধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। দুই ডিজিটের জিও কোড পেয়ে গেলে আমরা জন্ম নিবন্ধন সনদ দিতে পারবো। তাছাড়া এ পৌরসভায় আমি ছাড়া আর কোন কর্মকর্তা-কর্মচারি নেই। তবে আমার অফিসের মাধ্যমে অফলাইনে সবসেবা দিয়ে যাচ্ছি এবং ইউনিয়ন থাকাকালীন সময়ের ওয়ার্ড অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য; বিগত ২০১০ সালে নারায়ণপুর ইউনিয়নকে পৌরসভায় উন্নিত করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। একই বছরের ১৫ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নারায়ণপুর পৌরসভা গেজেট প্রকাশ করে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে পৌরসভার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। পৌরসভার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর উচ্চ আদালতের রায়ে পৌরসভার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ইউনিয়ন ও পৌরসভা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের একটি বিচারিক বেঞ্চে নারায়ণপুর ইউনিয়নের পক্ষে দায়ের করা মামলা খারিজ করে নারায়ণপুর পৌরসভা বহাল রেখে পৌরসভার পক্ষে রায় ঘোষণা করেন। এর পর থেকে পৌরসভার কার্যক্রম চলে আসছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’