শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বিদেশি’ বানিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতীয় মুসলিমদের!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫, ৪:৪৯ পিএম
‘বিদেশি’ বানিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতীয় মুসলিমদের!

উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যে বাঙালি মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্বিচার ‘বিদেশি’ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এমন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকারকর্মীরা। খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তাদের ভাষ্য, শুধুমাত্র ভাষাগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হাজারো মানুষকে আসাম থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হচ্ছে। গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০৩ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন দরিদ্র মুসলিমরা, যাদের অনেকেই প্রজন্ম ধরে আসামে বসবাস করছেন। পরিবারের সঙ্গে জীবনযাপন, জমি-জমার মালিকানা থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় বিদেশি ট্রাইব্যুনাল তাদেরকে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ বলে ঘোষণা করেছে।

মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এরা এতটাই অর্থনৈতিকভাবে অসহায় যে, ট্রাইব্যুনালের রায় চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ক্ষমতাও তাদের নেই। আর এ সুযোগেই তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে প্রশাসন।

Model Hospital

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আসামের ২৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে এখন চলছে রাতের আঁধারে বিতাড়নের অভিযান। স্থানীয় অসমিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে বাঙালি ভাষাভাষীদের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব রয়েছে। তাদেরকে চাকরি ও সম্পদের প্রতিযোগী মনে করা হয়, যা এ ধরনের পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

এদিকে ৯ জুন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্য বিধানসভায় ঘোষণা দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ৩০৩ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রাজ্যকে রক্ষা করতে হলে এই অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।’

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এমন কর্মকাণ্ডে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরাও ভুলভাবে চিহ্নিত হয়ে হয়রানির শিকার হতে পারেন। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট দৃষ্টান্ত বলেও মত দিয়েছেন তারা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’