শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে হট্টগোলের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পণ! ফুলের ডালা ভাঙচুর

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে হট্টগোলের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পণ! ফুলের ডালা ভাঙচুর
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফুলের ডালা ভাঙচুর এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ফরিদগঞ্জ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে গেলে বিএনপি ও স্বতন্ত্র এমপির সমর্থকদের মধ্যে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা যায়,নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানানোর কথা ছিল। প্রশাসনের সঙ্গে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম এ হান্নানের পুষ্পমাল্য অর্পণের ঘোষণা আসতেই সকল নিয়ম ভেঙে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে স্থানীয় বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন।
এ সময় শহীদ মিনারের ভিতরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে জহির পাঠান নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “নিয়মানুযায়ী আইনশৃঙ্খলা মেনে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার কথা। স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী নিয়ম ভেঙে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি।” আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না-এ প্রশ্নে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী দাবি করেন, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিদ্রোহী প্রার্থী ‘চিংড়ি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছেন। বর্তমানে বিএনপি সরকার গঠন করেছে-এ যুক্তিতে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীকে যুক্ত করে পুষ্পমাল্য অর্পণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, ফুলের ডালা নিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশের সময় ধাক্কাধাক্কিতে একটি ডালা ভেঙে যায়। এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরের ন্যায় মহান একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফরিদগঞ্জ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করে থাকে। তবে এবারের কর্মসূচিতে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন প্রশাসন শৃঙ্খলা তৈরি করে শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পণের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসন কঠোর হলে বিশৃঙ্খলতা তৈরি করতে পারতো না।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এমএ হান্নান  বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি কারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’