শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর ইচলী রহমানিয়া দরবার শরীফে ৩ দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরশ মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৩ পিএম
চাঁদপুর ইচলী রহমানিয়া দরবার শরীফে ৩ দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরশ মাহফিল অনুষ্ঠিত

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও চাঁদপুর ইচলী রহমানিয়া দরবার শরীফ ৩ দিন ব্যাপী পবিত্র ওরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিন অতিবাহিত হয়।

বুধবার দ্বিতীয় দিন মহান আল্লাহ রাসুলের নাম নিয়ে কোরান তেলয়াত এর মাধ্যেমে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । পর দিন বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার পর রহমানিয় দরবার শরীফের বিতরে মিলাদ মাহিফল এবং সারারাত ২টা ৩০ মিনিট সময় মোনাজাত শেষ অনুষ্ঠিত হয়। তবে অনুষ্ঠান আয়োজন ও সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন রহমানিয়া দরবার শরীফের ভক্তবৃন্দরা। উক্ত অনুষ্ঠানে

উক্ত মিলাদ মহফিল অনুষ্ঠান ও মোনাজাত পডিরচালনা করেন বাংলাদেশ অহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআয়াত চাঁদপুর সদর উপজেলার সাবেক সভাপতি মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান চিশতী চাঁদপুরী, মিলাদ কায়েম করান রহমানিয়া দরবারের ভক্ত মোঃ জামাল পাটওয়ারী, ও মোঃ মোঃ লোকমান খান,এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মইনীয়া ভক্ত ও দৈনিক চাঁদপুর সময় এর প্রকাশক মোহাম্মদ এরশাদ খান, ও রহমানিয়া দরবার শরীফের ভক্ত ও হযরত শাহ সুফি সাধক মোশারফ হোসেন মোশু পাটোয়ারীর জামাতা মোঃ রিপোন পাটওয়ারী, মোঃ ইব্রাহিম শেখ, মোঃ আব্দুল জলিল ভুইয়া, আব্দুল ছাত্তার মোঃ স্বপন, পাটওয়ারী, মইনীয়া ভক্ত ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ এর চাঁদপুর জেলার সাধারন সম্পাদক মোঃ আবুল হাসেম গাজী, আটরশি দরবার শরীফের ভক্ত মাওলানা তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক মোঃ মনির হোসেন মান্না, রহমানিয়া দরবার শরীফ সাইফিয়া ভক্ত মোঃ ইসমাইল হোসেন,
ও বিভিন্ন তরীকতের ভক্ত বৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনের ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল শেষে সবার মাঝে তাবারক বিতরন করা হয় প্রতিদিন ।

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’