শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

৬ দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ, হটলাইন চালু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩৩ এম
৬ দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ, হটলাইন চালু

ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে ছয় দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস।

শনিবার প্রকাশ করা পৃথক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর এরমধ্যেই কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় একজন বাংলাদেশি কর্মী আহত হওয়ার খবর এসেছে।

যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হওয়ার পর ইরান একে একে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এমন মধ্যপ্রাচ্যের দেশে হামলা শুরু করেছে।

Model Hospital

তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনার পর শনিবার সকালে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করে ইরান।

এমন প্রেক্ষাপটে দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকার এবং নিজ নিজ বাসায় অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

আরব আমিরাত, লেবানন, কাতার, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সেখানে থাকা প্রবাসীদের সর্তক করে এসব বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

সবগুলো দেশে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য দূতাবাসের তরফে হটলাইন চালু করা হয়েছে।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে একই সঙ্গে দেশগুলোর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে স্থানীয় সরকারের বিবৃতি বা নির্দেশনা অনুযায়ী চলার অনুরোধ করা হয়।

“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও আপলোড করা, অথবা ভিত্তিহীন কোন সংবাদ প্রচার করা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি বিধায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারেও সকলকে বিশেষভাবে যত্নশীল হবার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।”

আরব আমিরাতের আবুধাবীতে বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

এতে বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, বিশেষত খোলা আকাশের নিচে না যাওয়া, অযথা জমায়েত না হতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নগদ টাকা, এমিরেটস আইডি, পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক, পানি ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবসময় নিজের সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

জরুরি যোগাযোগের নম্বর

আরব আমিরাত

জরুরি প্রয়োজনে আবুধাবী ও দুবাইয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের ও কনস্যুলেটের হটলাইন নম্বর ও ইমেইলে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

আবুধাবীতে যোগাযোগের হটলাইন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হচ্ছে: +৯৭১ ৫৬৬১১ ৭২১৫, +৯৭১০২৪৪৬ ৫১০০, +৯৭১ ৫৪ ৭৪৩ ৯৩৯২ এবং +৯৭১ ৫০ ২৬৪ ৩৩৯৬। ইমেইল: mission.abudhabi@mofa.gov.bd

দুবাই কনস্যুলেটের হটলাইন নম্বর- +৯৭১ ৫০৮১৬৮২৫৩ ও +৯৭১৫০৮১৬৮৩৬৩ এবং ইমেইল: mission.dubai@mofa.gov.bd

ইরাক

ইরাকে জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ হটলাইন (+9647827883680 Whatsapp) এবং ইমেইলে (mission.baghdad@mofa.gov.bd) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

কুয়েত

জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন নম্বরসমূহ: +965 69920013, +965 66516404 এবং +965 50895161

আর ইমেইল হচ্ছে: mission.kuwait@mofa.gov.bd

বাহরাইন

জরুরী প্রয়োজনে দূতাবাসের হেল্পলাইন নম্বর: +৯৭৩ ৩৩৩৭৫১৫৫ এবং ইমেইল: mission.manama@mofa.gov.bd -এ যোগাযোগ করতে বলেছে মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাস।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’