রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে দুই পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত ডিআইজি

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে : অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমূল হক

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ পিএম
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে : অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমূল হক
শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দুটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো. নাজিমূল হক।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে তিনি উপজেলার শ্রী শ্রী মেহার কালীবাড়ি পূজামণ্ডপ ও উপজেলা পরিষদের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বর্ধনবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমূল হক বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের উদ্যোগে পূজামণ্ডপ তৈরি করে ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। তবে পূজারী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সারা দেশে প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে উদ্‌যাপন করতে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে মানুষ ধর্মীয় বিষয়ে উদারতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় দিয়ে আসছে। যার যার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার নিশ্চিত থাকবে।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কচুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল হাই চৌধুরী, শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বাবু নিখিল চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অমৃত মজুমদার টুটনসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, এ বছর শাহরাস্তি উপজেলায় ১৯টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ  ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।